তেরখাদায় বাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানিতে বিল এলাকা প্লাবিত

তেরখাদা (খুলনা) সংবাদদাতা

তেরখাদা উপজেলার চিত্রা নদীর মসুনদিয়া নামক স্থানে বাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে পাঁচ-সাতটি বিল প্লাবিত হয়েছে। বিলগুলোতে লবণপানি প্রবেশ করায় বোনা আমন ও আউশ ধানের ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়েছে। এবারে তেরখাদা উপজেলায় বোনা আমনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর এবং বোনা আউশের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। এরই মধ্যে দেড় হাজার হেক্টর আমন এবং ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আউশ ধান বোনা হয়েছে। চিত্রা নদীর বাঁধ ভেঙে বিভিন্ন বিলসংলগ্ন ৮/১০টি খাল দিয়ে লবণপানি প্রবেশ করে বিলে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।

এলাকার কৃষকরা জানান, দ্রুত বাঁধ নির্মাণ এবং বিলের পানি নিষ্কাশন করা গেলে ধানচাষিরা কিছুটা হলেও সুফল পেতেন। এ ব্যাপারে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী জানান, বাঁধ নির্মাণে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবিদা সুলতানাসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেছেন। কৃষকের আর যাতে ক্ষতি না হয় সে জন্যে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ শহীদুল ইসলাম জানান, তিনি সকালেই ভাঙনকবলিত স্থানে যান। এটি সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবিদা সুলতানা জানান, বাঁধ ভাঙার খবর শুনে তিনি দ্রুত মসুন্দিয়া এলাকায় ছুটে যান। ভাঙনকবলিত স্থান পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন। তিনি সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, কে বা কারা বাঁধটি কেটে দিয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি ডায়ারি করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বাঁধ মেরামতের জন্য হাতে কোনো বরাদ্দ নেই। এটি স্থানীয়ভাবে কিছু করা যেতে পারে। উপজেলা কৃষি অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাঁধ ভেঙে তেরখাদার কয়েকটি বিলে লবণপানি প্রবেশ করে ২ হাজার ৭০০ হেক্টর  বোনা আমন ও আউশ ধানের ক্ষতি হয়েছে।’