শুরু হয়নি নেত্রকোনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পের কাজ

জমি পানির নিচে

শ্যামলেন্দু পাল, নেত্রকোনা প্রতিনিধি

কৃষির জেলা নেত্রকোনার জনসাধারণের জীবনমান উন্নতির লক্ষ্যে  শিল্পনগর গড়ে তোলার জন্য চার বছর আগে প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে প্রকল্প চূড়ান্ত করার পর প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে প্রকল্পটি উদ্বোধন করা হলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি। কবে নাগাদ এর কাজ শুরু হবে তা কেউ বলতে পারছে না। অথচ প্রকল্প এলাকাও চিহ্নিত করা হয়েছে এবং দেড় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। অর্থনৈতিক জোন বা অঞ্চল নির্মাণের জন্য নির্ধারিত এলাকা এখনো পানিতে নিমজ্জিত। এই এলাকা আসলে বিল এলাকা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে ‘মেগা প্রকল্প ইকোনমিক জোন’ গড়ার জন্য নেত্রকোনা সদর উপজেলার সিংহের বাংলা ইউনিয়নের ভদ্রপাড়া ও বর্ণি এলাকার ৫০০ একর জমি প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়। প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদিত হয়।

কিন্তু সাড়ে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত প্রকল্পের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত বেজার গভর্নিং বোর্ডের চতুর্থ সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ময়মনসিংহ সফরকালে ‘নেত্রকোনা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’-এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।

নেত্রকোনা জেলা চেম্বারের সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, দেশের পিছিয়ে পড়া অঞ্চলে শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার এ ধরনের অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। নেত্রকোনা জেলাকেও এই জন্য বেছে নেওয়া হয়। অর্থনৈতিক অঞ্চলটি স্থাপিত হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে। এতে ঐ এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে। ফলে মানুষের কর্মসংস্থান ও আয় বাড়বে। এ প্রসঙ্গে নেত্রকোনা চেম্বারস অব কমার্সের সহসভাপতি আলহাজ এইচ আর খান পাঠান সাকি বলেন, ‘অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপিত হলে পিছিয়ে পড়া নেত্রকোনার মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। মানুষের আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্পটি আটকে আছে দীর্ঘদিন ধরে।

জানা গেছে, পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি এ প্রকল্প নিয়ে কয়েকটি সভাও করেছে। এটি চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দবিহীন প্রকল্প হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছে আগামী বছরের ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা। প্রকল্প ব্যয়ের এক-তৃতীয়াংশ খরচ হবে জমি কেনা ও উন্নয়নে। ৫০০ একর জমি অধিগ্রহণে ৩৫৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে, যা মোট অনুমিত ব্যয়ের ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ভূমি উন্নয়নে ব্যয় হবে ১৬৫ কোটি টাকা, যা মোট ব্যয়ের প্রায় ১১ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক কাজী মো. আবদুর রহমান বলেন, ‘প্রকল্পটির কাজ শুরুর জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করা হবে। বেজা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।’