ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এবং পূর্ণিমার প্রভাবে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নগরীর রাস্তাঘাট দীর্ঘক্ষণ পানিতে ডুবে থাকায় যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষাকালে বরিশাল নগরবাসীর চলাচল অনেকটাই নির্ভর করে জোয়ার-ভাটার উপর। ইয়াসের পর প্রতি ২৪ ঘণ্টায় চার বার জোয়ারের পানিতে ডুবে যাচ্ছে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সড়কের পার্শ্ববর্তী এলাকা। তবে নগরীতে জলাবদ্ধতার জন্য অনেকাংশে দায়ী নগরীর খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়া। দখলদাররা দখল করায় অনেক স্থানেই খালগুলো ড্রেনে পরিণত হয়েছে।
জানা গেছে, বরিশাল সিটি করপোরেশনের উন্নীত হওয়ার পর ২০ বছরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ খালগুলো দখলদারদের দৌরাত্ম্যে ড্রেনে পরিণত হয়েছে। এসব ড্রেনে জোয়ারের পানি বাধাগ্রস্ত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বাসাবাড়িতে উঠে যাচ্ছে। ফলে জীবনযাত্রায় ভোগান্তির পাশাপাশি সড়কগুলো নষ্ট হয়ে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ছে; ক্ষতি হচ্ছে কোটি কোটি টাকার। নগরীর ভাটিখানা এলাকার বাসিন্দা আজিজ আহমদ জানান, মাত্র কয়েক বছর আগে যে খাল দিয়ে নৌকা চলাচল করতো তা দখলদারদের কবলে পড়ে ড্রেনে পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে এসব ড্রেনের পাশে বহুতল ভবনসহ নানান স্থাপনা করেছে দখলদাররা।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল বাশার জানান, বরিশাল সিটি করপোরেশনের অধিকাংশ সড়ক বিটুমিনাস কার্পেটিংয়ের। আর বিটুমিনের শত্রু হচ্ছে পানি। জোয়ার-ভাটায় বরিশাল নগরীর বিভিন্ন সড়কে পানি ওঠায় তাতে ক্ষতি হচ্ছে।
বরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) জেলা সভাপতি প্রফেসর শাহ সাজেদা জানান, আগামী প্রজন্মের সুন্দর ভবিষ্যত্ বিনির্মাণে যেসব খালের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে পড়েছে সেসব খালগুলোর অবৈধ দখলদার মুক্ত করে পানি প্রবাহের ব্যবস্থা না করলে সংকট প্রকট আকার ধারণ করবে। অসাধু উপায়ে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে দখলকারীরা ভোগ দখল করায় বিভিন্ন অভিযানে তারা পার পেয়ে যাচ্ছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ জানান, গুরুত্বপূর্ণ ২৬টি খাল পুনঃখনন, তীর সংরক্ষণ এবং সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্প পাশ হলেই পর্যটন ও নৌপরিবহনে গুরুত্ব বাড়বে। রোধ হবে নগরীর জলাবদ্ধতা।