নড়াইলের লোহাগড়ায় এক কিশোরীকে অপহরণ করে আটকে রেখে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও ধর্ষণের ভিডিওচিত্র মোবাইল ফোনে ধারণের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ঐ কিশোরীর মা বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় এ মামলা দায়ের করেন। আসামি করা হয়েছে ধর্ষণে সহায়তাকারী এক নারীসহ ১৩ জনকে। পুলিশ বিপ্লব শরীফ নামে এজাহারভুক্ত এক আসামিকে আটক করেছে। বিপ্লব লোহাগড়ার নখখালী গ্রামের লতিফ শরীফের ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, মাগুরার মোহম্মদপুর উপজেলার মশাখালী গ্রামের যুবক রেজাউল করিমের সঙ্গে ফোনের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে লোহাগড়ার চাকুলিয়া গ্রামের ১৫ বছরের এক কিশোরীর। গত ৯ মে ঐ কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রেজাউল করিম ও তার বন্ধু বিপ্লব শরীফ ফোন করে নালিয়া বাজার এলাকায় ডেকে আনে। পরে সেখান থেকে কৌশলে কিশোরীকে তারা অপহরণ করে নড়াইল শহরের মহিষ খোলা এলাকায় রেজাউল করিমের ভাড়া বাসায় ১২ মে পর্যন্ত অবরুদ্ধ করে রাখে। সেখানে রেজাউল করিম ও বিপ্লব ঐ কিশোরীকে ধর্ষণ করে ও তার ভিডিওচিত্র মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখে। পরে ঐ কিশোরীকে ধর্ষণের ধারণকৃত ভিডিও প্রচারের ভয় দেখিয়ে রেজাউল করিম ও বিপ্লবের সহযোগিতায় তাদের অন্যান্য বন্ধু ও মামলার আসামি নড়াইল সদর থানার ঝিকড়া গ্রামের আলী, কোমখালী গ্রামের সৈয়দ আলী, লিটন ও লোহাগড়ার মশাঘুনি গ্রামের মইনুল ইসলাম মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে আসছিল।
গত ১৩ মে রেজাউল করিম ঐ কিশোরীকে নড়াইল সদর উপজেলার ভদ্রবিলা ইউনিয়নের ঝিকরা গ্রামে আয়শা খানমের বাড়িতে ১৭ মে পর্যন্ত আটক করে রাখে। সেখানেও ধর্ষণের ধারণকৃত ভিডিও প্রচারের ভয় দেখিয়ে ঐ ধর্ষকরাসহ আরো পাঁচ-ছয় জন মিলে কিশোরীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে আসছিল। এক পর্যায়ে ১৮ মে ভোরে সেখান থেকে কৌশলে ঐ কিশোরী পালিয়ে তার গ্রামের বাড়িতে যায় এবং বিষয়টি পরিবারের লোকজনকে জানায়। পরে এ ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার লোহাগড়া থানায় মামলা দায়ের করেন।