গল্পকথায়
পদার্থবিজ্ঞান
মাধব রায়, কথাসাহিত্যিক, সহকারী অধ্যাপক (পদার্থবিজ্ঞান)
ব্লু বার্ড হাইস্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট
গত ২৬ মে বুধবার ছিল পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। অনেকটা সময়ের জন্য চাঁদ পৃথিবীর ছায়ায় ঢেকে থাকে। প্রায় একঘণ্টা দশমিনিট। বাংলাদেশে দেখা যায় এই গ্রহণ। ঢাকায় ৬.৪১ মি.এ গ্রহণ শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭.৫১ মি.১৮ সেকেন্ডে শেষ হয়। সিলেটে এই গ্রহণ শুরু হয় ৬.৩০ মি. ১৮ সেকেন্ডে আর শেষ হয় ৭.৪৭ মি.৩৬ সেকেন্ডে। তখন চাঁদ ও পৃথিবীর দূরত্ব কমে যায়। মাত্র ৩৫৭৩০৯ কি.মি। এই অবস্থাকে বলা হয় পিরেগি। আকাশ নীলকান্তবাবুকে ধরল- মামা চন্দ্রগ্রহণ কীভাবে হয়?
নীলকান্তবাবু বললেন- তোরা তো জানিস, পৃথিবী সূর্যের চারদিকে উপবৃত্তাকার পথে ঘুরে। আবার চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে উপবৃত্তাকার পথে ঘুরে। চাঁদ পৃথিবীকে চক্কর দিতে দিতে সূর্যকেও চক্কর দেয়। এর এক পর্যায়ে চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝামাঝি কোনও এক স্থানে এসে উপস্থিত হয়। তখন চাঁদের যে অংশে সূর্যের আলো পড়ে পৃথিবী থেকে সেই অংশ দেখা যায় না। সেটি হলো চাঁদের অমাবস্যা। আবার যখন চাঁদ সূর্যের বিপরীতে এসে উপস্থিত হয়, তখন চাঁদের যে অংশে সূর্যালোক পড়ে সেই অংশ পৃথিবী থেকে দেখা যায়। তখন চাঁদের পূর্ণিমা।
কিন্তু গ্রহণ কখন হয়, তা বলো, বললেন কমলা।
নীলকান্তবাবু বললেন- চাঁদ ও পৃথিবীর কক্ষপথ উপবৃত্তাকার বলেই একবার কাছে আসে আবার দূরে চলে যায়। এরই এক পর্যায়ে যখন চাঁদ পৃথিবী ও সূর্য এক সরলরেখায় এসে পৌঁছে এবং চাঁদ ও সূর্যের মাঝখানে পৃথিবীর অবস্থান হয়, তখন উপবৃত্তের নিকট অবস্থান দিয়ে যাবার কারণে চাঁদ পৃথিবীর ছায়ার মধ্যদিয়ে অতিক্রম করে। এতে পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়ে এবং চাঁদ ঢেকে যায়। ফলে ভরা পূর্ণিমাতেও কিছু সময় চাঁদের আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে না। তখনই চন্দ্রগ্রহণ হয়।
তাহলে তো সব পূর্ণিমাতেই চন্দ্রগ্রহণ হবার কথা- বলল আকাশ।
সাপোর্ট করলেন কমলা। তিনি বললেন- পূর্ণিমাতে যদি চাঁদ পৃথিবী আর সূর্য একই রেখায় থাকে, তাহলে সব পূর্ণিমাতে গ্রহণ হয় না কেন?
নীলকান্তবাবু বললেন- সব পূর্ণিমাতে চাঁদ পৃথিবীর শংকু আকৃতির ছায়ায় প্রবেশ করে না। কারণ চাঁদ তো উপবৃত্তাকার পথে ঘুরে। একবার দূরে, আবার কাছে এভাবে পরিক্রমণ করে। পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদের কক্ষপথ আর সূর্যকে ঘিরে পৃথিবীর কক্ষপথ একই সমতলে নয়, ৫ ডিগ্রি হেলে থাকে। একই সমতলে থাকলে প্রতিমাসেই চাঁদ সূর্য আর পৃথিবী একই রেখায় আসতে পারত। তাহলে প্রতিমাসেই চন্দ্রগ্রহণ হতে পারত।
চাঁদ পশ্চিম থেকে পূবে ২৭.৩২ দিনে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। খুব দ্রুতগতিতে চাঁদ চব্বিশ ঘণ্টায় ১৩ ডিগ্রি কৌণিক দূরত্ব অতিক্রম করে। আর পৃথিবীর কক্ষপথের ওপর চাঁদের কক্ষপথ হেলে থাকে ৫ ডিগ্রি। তাই চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের রেখা ও পৃথিবীর ছায়ার কিছুটা উপর বা নিচ দিয়ে চলে যায়। চন্দ্রের কক্ষপথ যে দুই বিন্দুতে পৃথিবীর কক্ষপথকে ছেদ করে তাদের নাম রাহু ও কেতু। চন্দ্রের অবস্থান এই দুই বিন্দুর কোনোটির কাছাকাছি হলেই চন্দ্রগ্রহণ হয়।
কমলা বললেন- কিন্তু আমরা তো জানি রাহু ও কেতু নামের দেবতা গ্রহণের সময় চাঁদকে খেয়ে ফেলে।
কী ?
কেউ কেউ বলে বোয়াল মাছে চাঁদ খেয়ে ফেলে, আবার বের করে দেয়-কমলা হেসে বললেন।
যখন মানুষ গ্রহণ সম্পর্কে কোনও ধারণা রাখত না তখন বিভিন্ন দেশের মানুষ বিভিন্ন রকম কল্পনা করত। চিন দেশের মানুষ মনে করত ড্রাগন খেয়ে ফেলেছে চাঁদকে। বললেন নীলকান্তবাবু।
পরের অংশ আগামীকাল