কেমন আছেন আলীরাজ?

তখন একাধিক নায়কের সিনেমা একসঙ্গে মুক্তি পেলেও অনেক সিনেমা হল ফাঁকা থাকতো। তখন পরিচালকরা নতুন মুখের সিনেমা মুক্তি দিলেও দর্শকরা সেটা গ্রহণ করতো। কিন্তু এখন কী সেটা সম্ভব?

g বিনোদন প্রতিবেদক

 

‘বিশ্ব মহামারির এই সময়ে তো জীবন বাঁচানোই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িছে। যে ছবিগুলো শুরু করেছিলাম সেগুলো আপাতত বন্ধ রেখেছি। কারণ চোখের সামনে ওয়াসিম, করবী, সাদেক বাচ্চুসহ অনেককেই করোনা আক্রান্ত হয়ে চলে যেতে দেখলাম। এই অবস্থায় আসলে আল্লাহর নাম ছাড়া কিছুই মনে পড়ছে না।’—নিজের বর্তমান কাজের প্রসঙ্গ উঠতেই কথাগুলো বললেন গুণী অভিনেতা আলীরাজ।

উল্লেখ্য, আলীরাজ চলচ্চিত্রের সোনালি যুগ থেকে এখন অবধি নিয়মিত অবদান রেখে চলেছেন দেশের ইন্ডাস্ট্রিতে। যেখানে একজন অভিনেতা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিনয় থেকে হারিয়ে যান সেখানে নায়ক ইমেজ শেষ হতেই সংকটের ভেতর দিয়ে চলা ইন্ডাস্ট্রিতে ভাই-বাবা’সহ অন্যান্য চরিত্রেও সফলতার ছাপ রাখছেন প্রতিনিয়ত। এ নিয়ে আলীরাজ বলেন, ‘চলচ্চিত্রের সোনালি যুগেও বারবার সংকট এসেছে এবং সেটা আমরা কাটিয়েও উঠেছি। এখন হয়তো কিছুটা সংকট চলছে, তবে শিগগিরই আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে আমাদের চলচ্চিত্র। লক্ষ্য করলে দেখবেন, করোনার আগে কিন্তু শাকিব, সাইমন, বাপ্পীসহ একাধিক শিল্পীর কাজ প্রশংসিত হচ্ছিল এবং সে সময় চলচ্চিত্রবান্ধব কিছু পরিচালক-প্রযোজকও এসেছিল। অভিনয় নিয়ে বলবো, সিনিয়িররা কাজ পাচ্ছে না, এটা ভুল। একটি চলচ্চিত্রের গল্পে পরিচালক বা প্রযোজকের মনে হবে এই চরিত্রে আলীরাজকে দরকার তখন কিন্তু সে আমাকে ডাকবেই। কারণ একটি চলচ্চিত্রও ভিত কিন্তু ক্যারেক্টার আর্টিস্ট।’

এদিকে চলচ্চিত্রের সংকটের জন্য সিনেমা হল বন্ধ ও ভালোমানের ছবি তৈরি না হওয়াকে দায়ী করছেন অনেকে। এ নিয়ে নানা সময় উত্তরণের বিভিন্ন কথা প্রচারও হয় সাড়ম্বরে। কিন্তু বাস্তবে উল্টো চিত্র দেখা যায়। পাশাপাশি দেশের চলচ্চিত্রে একক নায়ক নির্ভরতা কাটিয়ে না উঠতে পারাকে অনেকে এই সংকটের কারণ বলে মনে করেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আলীরাজ বলেন, ‘আমাদের সময় ১২শ সিনেমা হল ছিল কিন্তু এখন ১শ সিনেমা হলও নেই। তখন একাধিক নায়কের সিনেমা একসঙ্গে মুক্তি পেলেও অনেক সিনেমা হল ফাঁকা থাকতো। তখন পরিচালকরা নতুন মুখের সিনেমা মুক্তি দিলেও দর্শকরা সেটা গ্রহণ করতো। কিন্তু এখন কী সেটা সম্ভব? এখনো আমাদের দেশে ভালো গল্প, ভালো নির্মাতা রয়েছে। কিন্তু সিনেমা কয়টি হচ্ছে যে নতুন স্টার তৈরি করার মতো অবস্থা সৃষ্টি হবে! শাকিবকে তো এখনকার পরিচালকরাই শাকিব বানিয়েছেন। তার মেধা ছিল বলেই এই সংকটের মাঝেই নিজের অবস্থান তৈরি করতে পেরেছে। নির্মাতাদের তো মেধাহীন বলা যায় না।’

অন্যদিকে নতুন মাধ্যম ওটিটিতে সারাবিশ্বের বিখ্যাত ও বিগ বাজেটের সিনেমা মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। হল বন্ধ থাকলেও এই মাধ্যমটিতে সিনেমার একটি বড় বাজার রয়েছে। সম্প্রতি দেশেও ওটিটির প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। তবে শুরুতেই মাধ্যমটি নিয়ে নানা নেতিবাচক আলোচনা চলছে। অর্ধেক সিনেমা মুক্তি থেকে শুরু করে নাটক-ওয়েব সিরিজে অশ্লীলতা একটি আপেক্ষিক শব্দে পরিণত হয়েছে। সার্বিক এই বিষয়গুলো নিয়ে আলীরাজ আরো বলেন, ‘আমার মনে হয় যেহেতু একটি চলচ্চিত্র ওটিটিতে মুক্তি দিলে সারাবিশ্বের মানুষ দেখতে পায় সেহেতু সেই মানের চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে পারলে বিশ্ববাজার ধরা আমাদের পক্ষেও সম্ভব। কারণ একটি চলচ্চিত্র হলে মুক্তি দিলাম, ভালো হলো না, হল থেকে নামিয়ে দিলাম। সেটা কিন্তু দেশের ভেতরেই থাকলো। এমন কাজ ওটিটিতে মুক্তি দিলে আমাদের সংস্কৃতির প্রতি মানুষ আগ্রহ হারাবে। দেশের সংস্কৃতির কথা মাথায় রেখে আন্তর্জাতিকমানে কাজ ওটিটিতে মুক্তি দিতে হবে।’