সাভার ও আশুলিয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল
তুহিন খান
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন সড়কে অবাধে চলাচল করছে অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন বাস, লেগুনা, বেবিট্যাক্সি মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন। করোনাকালে লকডাউনের মধ্যেও শিল্পকারখানা ছুটির সময় পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বাস ও লেগুনায় গাদাগাদি করে ও দরজায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে ঝুলে যাতায়াত করতে দেখা যায়। সরকার যানবাহনে অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের নির্দেশনা দিলেও তার কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না।
সাভারের হেমায়েতপুর থেকে আশুলিয়া, বিরুলিয়া ও আব্দুল্লাহপুর রোডে প্রতিনিয়তই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সব যানবাহনে চলাচল করছে যাত্রী। মহাসড়কে যাত্রী বহনকারী এ সব যানেরঅধিকাংশেরই নেই কোনো ফিটনেস এবং বৈধতা। চালকরাও কিশোর ও যুবক, যাদের বেশির ভাগেরই নেই বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স। ফলে বিভিন্ন সময় ঘটছে দুর্ঘটনা। মহাসড়কে লেগুনা, নসিমন, করিমন চলাচল নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও এ সব পরিবহন মাত্রাতিরিক্ত যাত্রী বহন করে মহাসড়কে সর্বদাই যাতায়াত করছে। আর প্রশাসন অজ্ঞাত কারণে তা দেখেও না দেখার ভান করছে।
সাভার উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের সড়কে অবাধে কাগজপত্রবিহীন চোরাই, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল করছে। চোরাই যানবাহনের মধ্যে রয়েছে ট্রাক, বেবিট্যাক্সি, টেম্পো ও মোটরসাইকেল। এসব যানবাহন আটক ও কাগজপত্র পরীক্ষায় পুলিশ প্রশাসনের তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। কারণ প্রতিটি চোরাই ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন থেকে পুলিশ নির্দিষ্ট অঙ্কের মাসোহারা পেয়ে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক, বাইপাইল-টঙ্গী, নবীনগর-কালিয়াকৈর মহাসড়ক ছাড়াও সাভারের প্রতিটি সড়ক ও অলিগলিতে প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন চলাচল করছে। সাভার ব্যাংক কলোনির বাসিন্দা ইকবাল মাহমুদ বলেন, যানবাহনে যাত্রী সেবার কোনো মান নেই। লক্কড়ঝক্কড় যানবাহন চলাচল করলেও ট্রাফিক পুলিশ তা বন্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে না। করোনার মধ্যেই অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে এসব যান চলাচল করছে।
সাভারের শিমুলিয়া ইউনিয়নের মুনসুরবাগ গ্রামের বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, জিরানী-শিমুলিয়াসহ বিভিন্ন সড়কে কাগজপত্রবিহীন চোরাই ট্রাক, বেবিট্যাক্সি, টেম্পো দেদার চলছে। এ ছাড়া বিভিন্ন অলিগলিতে পাল্লা দিয়ে চলছে অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও টেম্পো। এসব যানবাহনের চালকরা অদক্ষ এবং কারোরই ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। ফলে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে।
জানা যায়, এসব সড়কে চোরাই যানবাহন চলাচল ও বেচাকেনায় সন্ত্রাসী চক্র জড়িত। যারা সমাজের অন্যান্য অপরাধের সঙ্গেও জড়িত। ফলে এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি ঘটছে। কিন্তু চোরাই ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিষয়ে প্রশাসনের সর্বস্তর অবগত থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তা বন্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। উপরন্তু প্রতিমাসে পুলিশকে নির্দিষ্ট হারে ঘুষ প্রদান করে থাকে এ চক্রটি। আর পুলিশের মৌখিক অনুমতিতেই এসব কাগজপত্রবিহীন যানবাহন সড়কে চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সাভার হাইওয়ে থানার একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, স্বল্প জনবল নিয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যানজট নিরসনেই হিমশিম খেতে হয়। তারপরও ফিটনেসবিহীন গাড়ি পেলে আটক করা হয়। অচিরেই ফিটনেস ও কাগজপত্রবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।