কাজে আসছে না হাওদা বিলের জোড় সেতু

ঢলে সরে যায় মাটি

গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

দুই কিলোমিটার সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার হাওদা বিলের কোটি টাকার জোড় সেতু কাজে আসছে না। জানা যায়, পাহাড়ি হাওদা বিলের পশ্চিমপাড়ে কুড়াগাছা আর পূর্ব পাড়ে অরণখোলা ইউনিয়ন। পশ্চিমপাড়ের মালির বাজার থেকে একটি গ্রামীণ সড়ক ২ কিলোমিটার হাওদা বিল পাড়ি দিয়ে পূর্বপাড়ে গাছাবাড়ী নলকূপ পাড়ায় পাকা সড়কে মিশেছে।

মালিরচালা বাজারের ব্যবসায়ী সোহেল জানান, এটি সেটেলমেন্টের পুরোনো রাস্তা। বছরের ছয় মাস এ রাস্তা বিলের পানির নিচে থাকে। আর ছয় মাস মানুষ পায়ে হেঁটে চলাচল করে। বিলের মাঝখানের সরু খালে সারা বছর পানি থাকে। এ খালের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে গা লাগোয়া দুটি সেতু। কুড়াগাছা ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আবদুস সালাম জানান, বিলের ওপারে জলছত্র বাজারে আনারস, কলার পাইকারি হাট এবং ফলের মোকাম অবস্থিত। এপার থেকে এসব ফল জলছত্র বাজারে নিতে বিলের রাস্তা ও সেতু হতে পারে বড় সহায়ক। এ ছাড়াও বিলের রাস্তা দিয়ে চাপাইদ, মালিরবাজার অরণখোলা, পশ্চিম ভুটিয়া, গাছাবাড়ী ও জলছত্র গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। বর্ষাকালে নৌকায় পারাপার চলে। এলাকাবাসীর দুর্ভোগ নিরসনের জন্য সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু/কালভার্ট প্রকল্পের আওতায় হাওদা বিলে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি জোড় সেতু নির্মাণ করে। এটিকে জোড় সেতু বলা হয়। কিন্তু ব্রিজের উভয় পাড়ের সংযোগ সড়ক উঁচু না করায় জোড় সেতু কাজে আসছে না। এলাকাবাসীকে পিরোজপুর কাকরাইদ হয়ে ৮ কিলোমিটার উলটো ঘুরে জলছত্র পাইকারি বাজার অথবা টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কে উঠতে হয়। কুড়াগাছার স্কুলশিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, সংযোগ সড়ক উঁচু না করায় যানবাহন তো দূরের কথা বাইসাইকেল নিয়েও জোড় সেতু পাড়ি দিয়ে এপার-ওপার করা যায় না। কুড়াগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক মানুষের দুর্ভোগের সত্যতা স্বীকার করে জানান, গত অর্থবছরে কাবিটার আওতায় কুড়াগাছা অংশের রাস্তায় কিছু মাটি ফেলা হয়। কিন্তু বর্ষাকালে বিলে ১০-১২ ফিট পানি জমে। ফলে বিলের ঢেউয়ে রাস্তা ভেঙে যায়। অরণখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রহিম জানান, দুই বছর ধরে এ রাস্তায় মাটি ফেলা হয়। কিন্তু বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢলের পানি নামা শুরু হলে রাস্তার মাটি ধুঁয়ে-মুছে যায়। বিগত এক সপ্তাহ ধরে অরণখোলা অংশে কাবিটার আওতায় ১০ ফিট উঁচু এবং ১২ ফিট প্রশ্বস্ত মাটির রাস্তার কাজ চলছে। এবার বর্ষায় এটি কতটা টিকবে কে জানে!

মধুপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজীব আল রানা জানান, বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢল এবং বিলের প্রচণ্ড ঢেউয়ে এখানকার কাঁচা রাস্তা টিকিয়ে রাখা দুঃসাধ্য। এজন্য প্রতি বছরই নতুন মাটি ফেলা হয়। এবার রাস্তাটি টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করা হবে। মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা ইয়াসমীন জানান, দ্রুত রাস্তা ও সেতু চলাচল উপযোগী করার জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও দুই ইউপি চেয়ারম্যানকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।