হুমকিতে পাঁচবিবির শিমলতলী সেতু

এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা

পাঁচবিবিতে শিমলতলী সেতু হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নদী খনন ও সেতু সংলগ্ন এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করাতেই এই পরিস্থিতি। যে কোনো সময় সেতুটির পশ্চিম অংশ নদীগর্ভে ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শনিবার সকালে এলাকাবাসী সেতু রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন।

কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টিতে শুক্রবার রাতে পাঁচবিবির ছোট যমুনা নদীতে পানির ঢল নামায় খননকৃত নদীর শিমলতলী সেতুর পশ্চিম পাড়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। ফলে সেতুসহ সংযোগ সড়ক হুমকিতে রয়েছে। ভাঙনে নদী তীরবর্তী বিদ্যুতের পোল নদীগর্ভে তলিয়ে গেলে পশ্চিম পাড়ের গ্রামগুলোতে বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে এলাকার লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিলে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল শহিদ মুন্না, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবমান হোসেন, পাঁচবিবি এলজিইডির প্রকৌশলী কাইয়ুম হোসেন ও ওসি পলাশ কুমার দেব। শনিবার সকালে এলাকার লোকজন সেতু রক্ষার দাবিতে সেতু অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক মো. শরিফুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান এবং জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আলাউদ্দিন হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক লোকজনকে শান্ত থাকতে বলেন। তিনি এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকেও দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, সেতু রক্ষায় দুই-এক দিনের মধ্যেই বালুর বস্তা ও সিসি ব্লক ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সানোয়ার হোসেন, চিনিকলের সাবেক শ্রমিক নেতা বাবুল করিমসহ আরো অনেকে জানান, অপরিকল্পিতভাবে নদী খনন ও সেতুসংলগ্ন এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করায় বর্তমানে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বালু উত্তোলন বন্ধে ইতিপূর্বে কয়েক বার প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি উপজেলার চেঁচড়া সীমান্ত থেকে জয়পুরহাট সদর উপজেলার দাদরা পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ৩০ মিটার প্রস্থ ও দুই মিটার গভীর নদী খনন শুরু হয়েছে বলে জানান তারা।