লকডাউনে বন্দরে নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি : বন্দর চেয়ারম্যান
ইত্তেফাক রিপোর্ট
করোনা মহামারির মধ্যেও দেশের সবচেয়ে বড় আমদানি-রপ্তানি চ্যানেল চট্টগ্রাম বন্দর চালু রয়েছে। জীবন ও জীবিকার মধ্যে সমন্বয় করে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতেই এ বন্দর চালু রয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে বন্দরকে সচল রাখতে আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যার সুফল আমরা ইতিমধ্যে পেয়েছি। ১৪ এপ্রিল থেকে বন্দর এক মুহূর্তের জন্য বন্ধ নেই।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বন্দরের প্রতিটি জেটি কানায় কানায় পরিপূর্ণ এবং বহির্নোঙরে জাহাজের সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত ও স্বভাবিক। ২০২০ সালের ২০ এপ্রিলে চট্টগ্রাম বন্দরের ধারণক্ষমতা ছিল ৪৯ হাজার ১৮ টিইইউএস কনটেইনার। ঐ সময়ে ৪৯ হাজার ৯৭৩ টিইইউএস কনটেইনার স্টোরেজ করা হয়েছিল। যার ফলে ধারণক্ষমতার বেশি কনটেইনার স্টোরেজ করায় তখন বন্দর স্থবির হয়ে গিয়েছিল। ২০২১ সালের ২১ এপ্রিলে কনটেইনার লোডিং অবস্থায় আছে ৩২ হাজার ৩৭৬ টিইইউএস এবং জাহাজের সংখ্যা মাত্র ১৪টি জাহাজ আছে বহির্নোঙরে। এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং বর্তমানে বন্দরে কোনো জাহাজ এবং কনটেইনারের জট নেই।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে আশা করি আমরা আরো ভালো অবস্থানে থাকব। তিনি বলেন, লকডাউনে বন্দরকে স্বাভাবিক ও সচল রাখতে আমরা আমাদের সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করেছি। আমরা তাদের সাহায্য চেয়েছি এবং সাহায্য দিয়েছি। আমরা পুলিশ প্রশাসনকে বলে দিয়েছি যে, বন্দরের কাজে নিয়োজিত ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লরিসহ অন্য গাড়িগুলোকে রাস্তায় যেন কোনো হয়রানির শিকার না হতে হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার জন্য। তিনি বলেন, আমরা বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্বউদ্যোগে ট্রাকগুলোতে স্টিকার লাগিয়ে দিয়েছি। তারা আমাদের কাছে এসে স্টিকার চাইতে হয়নি। আমরা নিজেরাই বন্দর থেকে বের হওয়ার সময় প্রতিটি ট্রাকের গ্লাসে এই স্টিকার লাগিয়ে দিয়েছি। সেটা দেখার সঙ্গে সঙ্গে বন্দর পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ তাদেরকে রাস্তায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেছে। অন্যদিকে বন্দরে কনটেইনার জট কমাতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি তারাও যথাসময়ে কনটেইনারগুলো সরিয়ে আমাদেরকে সহযোগিতা করছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, লকডাউনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ১৮ দফা বাস্তবায়নে আমরা আমাদের সব স্টেকহোল্ডারের কাছ থেকে যথেষ্ট সাড়া পেয়েছি। আমাদের ইমপোর্টার, এক্সপোর্টার, শিপিং এজেন্ট, কাস্টমস, ব্যাংক, বিমা থেকে শুরু করে সবাই কাজ করেছে। যে কারণে গত লকডাউনে বন্দর স্থবির হলেও এবার সে রকম পরিস্থিতিতে আমাদের পড়তে হয়নি। তিনি বলেন, আমরা করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করে চলেছি। এক্ষেত্রে সরকারের যে নির্দেশনা রয়েছে আমরা সেটি মেনে চলেছি।
বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত টার্নওভার টাইম ২.৫০ যেটি গত বছর লকডাউনের আগে ছিল ২.৫১। অর্থাত্ টার্নওভার টাইমে তেমন একটা হেরফের হয়নি। কনটেইনার ডেলিভারিতে তেমন একটা হেরফের হয়নি। ১৪ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত আমদানি কনটেইনার হ্যান্ডেল করা হয়েছে ২৫ হাজার ৫৩৪ টিইইউএস এবং রপ্তানি কনটেইনার হ্যান্ডেল করা হয়েছে ২৫ হাজার ৮২০ টিইইউএস। এ সময়ে মোট কনটেইনার হ্যান্ডেলিং হয়েছে ২৫ হাজার ৩৬১ টিইইউএস।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বলেন, করোনা মহামারি এবং লকডাউনের মধ্যেও আমাদের বন্দর থেমে নেই। চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে জাহাজ এবং কনটেইনারের কোনো জট নেই। সবাই যদি আমাদেরকে সহযোগিতা করে তাহলে আশা করছি লকডাউনে বন্দরে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। অর্থনীতিতে একটা ইতিবাচক প্রভাব থাকবে ইনশাআল্লাহ।