নওশাদ কবির মজুমদার ওরফে নাহিদ নামে কুমিল্লা জিলা স্কুলের দশম শ্রেণির এক ছাত্রকে মারধর এবং উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত ও হাত ও পায়ের রগ কেটে গুরুতর আহত করেছে ‘আরজিএস’ নামের একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। তুচ্ছ ঘটনায় ঐ গ্যাংয়ের জাহিদ খান নামের এক কিশোর তার সঙ্গীদের নিয়ে শুক্রবার (২৮ মে) সন্ধ্যায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় ঈদগাহের পাশে এ ঘটনা ঘটায়। ঘটনার পর থেকে পুলিশ রাতভর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ঐ গ্যাংয়ের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। গতকাল শনিবার বিকালে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। মামলার এজাহার ও আহত ছাত্রের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম আশ্রাফপুর এলাকার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়াতুন্নবী মজুমদারের ছেলে কুমিল্লা জিলা স্কুলের ১০ম শ্রেণির ছাত্র নওশাদ কবির মজুমদার নাহিদ (১৫) তার বন্ধু শহরতলীর ধর্মপুর এলাকার বাসিন্দা নুরুর রহমান খানের ছেলে জাহিদ খানকে ফেসবুক থেকে আনফ্রেন্ড করে দেয়। এ নিয়ে কিছুদিন আগে নাহিদের সঙ্গে জাহিদ ও তার বন্ধুদের তর্কবিতর্ক হয়। এর জের ধরে শুক্রবার রাতে কুমিল্লা নগরীর কেন্দ্রীয় ঈদগাহের দক্ষিণ পার্শ্বে জিমনেসিয়ামের সামনের রাস্তায় নাহিদকে একা পেয়ে জাহিদ (১৭), তার বন্ধু শরিফুল ইসলাম (১৬), প্রমি চন্দ্র শীল (১৭), ফারহাত হোসেন অর্ণব (১৬), সাফায়েত (১৫), সাজ্জাদ হোসেন বাবু (১৫), রিফাত (১৫) ও অজ্ঞাতনামা আরো সাত-আট জন মিলে মারধর করে এবং তার হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। এসময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে জড়িতদের গ্রেফতারে থানার এএসআই হান্নান আল-মামুন ও রুবেলের নেতৃত্বে পুলিশের টিম নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জাহিদ খানসহ এজাহারনামীয় চার আসামিকে গ্রেফতার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, তাদের ‘আরজিএস’ নামে একটি গ্রুপ রয়েছে। এ নামে তাদের গ্রুপটি কিশোর গ্যাং হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
আহত স্কুলছাত্রের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়াতুন্নবী মজুমদার সাংবাদিকদের বলেন, ফেসবুকে আনফ্রেন্ড করার মতো তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঐ কিশোরেরা আমার ছেলেকে নির্দয়ভাবে মারধরসহ ছুরিকাঘাত করে তার হাত ও পায়ের রগ কেটে দিয়েছে।
বিকালে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।