মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ছয় ট্রিলিয়ন ডলারের একটি বাজেট প্রস্তাব করেছেন। এই বাজেটে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং সামাজিক বৈষম্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নিজের ক্ষমতার প্রথম বছরেই বিশাল ব্যয়ের এই বাজেট প্রস্তাব করলেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। খবর বিবিসির
শুক্রবার প্রকাশ করা বাজেট প্রস্তাবে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট বাইডেন দুর্বল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ধনীদের কর বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিনের সামাজিক বৈষম্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেছেন। সাম্প্রতিক কালে আগের প্রেসিডেন্টের তুলনায় সবচেয়ে ব্যয়বহুল বাজেট প্রস্তাব করেছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। করোনাকালে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে তিনি ব্যাপক পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তবে জিডিপির ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনেননি প্রেসিডেন্ট বাইডেন। ২০২২ সালের বাজেটে চাইল্ডকেয়ার এবং কলেজের জন্য তহবিলের জোগান, সংখ্যালঘুদের ব্যবসায় বিনিয়োগ বাড়ানো এবং গরিবদের জন্য গণপরিবহন সহজলভ্য করার কথাও আছে। প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেছেন, এর বাজেটের মাধ্যমে মধ্যবিত্ত শ্রেণি এবং গরিব আমেরিকানরা আরো স্থিতিশীল হবেন এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি হবে। বাজেটে সামাজিক বৈষম্য যেমন বর্ণবাদ দূরীকরণ, গ্রাম ও শহরের নাগরিকদের মধ্যে পার্থক কমানোর বিষয়টি স্থান পেয়েছে।
কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্রেটিক পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও উচ্চকক্ষ সিনেটে ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকান ব্যবধান কাছাকাছি হওয়ায় বিপুল ব্যয়ের এই বাজেট সহজে গৃহীত হবে না বলেই অনেকে মনে করছেন। প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম প্রেসিডেন্ট বাইডেনের বাজেট প্রস্তাবকে ‘মাথা খারাপ করা’ বলে অভিহিত করেছেন। বাইডেনের বাজেট পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩১ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের পরিমাণ এর জিডিপির ১১৭ শতাংশে পৌঁছে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা সমালোচকদের।
সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিটি বাজেট প্রস্তাবনায় আয় ও ব্যয়ের মধ্যে বিশাল ঘাটতি ছিল। গত বছর দেওয়া শেষ বাজেটে তিনি ৪ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন খরচের প্রস্তাব করেছিলেন। বাইডেনের বাজেটে পেন্টাগন এবং সরকারি বিভিন্ন বিভাগের ব্যয় বাবদ ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন বরাদ্দ রাখা হয়েছে; কর্মসংস্থার সৃষ্টির জন্য রাখা হয়েছে ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার। শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও পরিবারের সামাজিক কর্মসূচিতে ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।