করোনা পরিস্থিতি অনুকূলে এলে আগামী ১৩ জুন থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তবে তিনি বলেন, আমরা যে তারিখই নির্দিষ্ট করি না কেন, সেই সময়ের আগে করোনা পরিস্থিতি অনুকূলে না এলে মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে ঝুঁকি নেব না। দীপু মনি বলেন, বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নিচে না নামলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া উচিত হবে না। ঈদ যাত্রার কারণে সংক্রমণের হার আবারও কিছুটা ঊর্ধ্বগামী।
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জনতার প্রত্যাশা ও নাগরিক সমাজের আয়োজনে সদ্যপ্রয়াত সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরুর স্মরণসভায় অংশ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।
নাগরিক সমাজের সভাপতি ব্যারিস্টার সোহরাব হোসেন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা.দীপু মনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রুহুল, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার প্রমুখ।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে একটি অপশক্তি ষড়যন্ত্র করেছিল, দেশকে পিছিয়ে নিতে তারা দেশের আইন ও সংবিধানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল। এরকম সংকটময় মুহূর্তে শেখ হাসিনার সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন আব্দুল মতিন খসরু। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় শুধু আইনমন্ত্রী হিসেবেই নয়, সেসময় একজন বিজ্ঞ আইনজীবী হিসেবে এবং একজন সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি নিরলসভাবে পরিশ্রম করে গেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আর্দশের রাজনীতি করেছেন আব্দুল মতিন খসরু। তার অসময়ে চলে যাওয়া দেশ ও জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, আমরা বলেছি আগামী ১৩ জুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দিতে চাই। আমরা চেষ্টা করব। অনেক জায়গা থেকে চাপ আছে, অনেক আন্দোলনের ডাক রয়েছে। তবে সেটি বৃহত্তর ছাত্র সমাজ বা অভিভাবক যারা আছেন, তাদের মতামতকে প্রতিফলিত করে না। আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে খুলে দিতে চাই। সেজন্য আমাদের সব রকম প্রস্তুতি আছে। তবে করোনা পরিস্থিতিকে আমাদের মাথায় রাখতে হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কিন্তু আমরা অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থা চালু রেখেছি। যদিও তার কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। তবে প্রতিদিনের অনলাইন পড়াশোনার মান ও পরিসর বাড়ছে। আমরা সবাই এতে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি।