আগামী ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেটে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য যৌক্তিক বরাদ্দ হওয়া উচিত ১২ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা। পারিবারিক কৃষিতে নারীর স্বীকৃতি নেই, সাধারণ কৃষকরা এখনো রাষ্ট্রীয় সেবা ও সুরক্ষা বেষ্টনী থেকে বঞ্চিত। লকডাউনের কারণে মানুষের আয়ে প্রভাব ফেলছে। লকডাউন দীর্ঘায়িত হলে দেশে মধ্যবিত্ত শ্রেণি বলে কিছু থাকবে না।
গতকাল শনিবার ‘গ্রামীণ নারী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্যরোধ এবং কৃষির সংস্কারে বাজেট বৃদ্ধির গুরুত্ব’ শীর্ষক জাতীয় ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। এএলআরডি, এইচডিআরসি ও দৈনিক বণিক বার্তা যৌথভাবে এই ওয়েবিনারের আয়োজন করে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কিংবা মাথাপিছু আয়বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের অবস্থার পরিবর্তনে কোনো কাজে আসেনি। বরং আয় বৈষম্য ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
মূল প্রবন্ধে অর্থনীতিবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত বলেন, প্রথম লকডাউনের দুই মাসে নতুন করে দরিদ্র হয়েছেন ৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষ। এ ধারা চলতে থাকলে এবং লকডাউন দীর্ঘায়িত হলে দেশে মধ্যবিত্ত শ্রেণি বলে কিছু থাকবে না। প্রথম ৯ মাসে স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃক এডিপির মাত্র ২১ শতাংশ ব্যয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে করোনা মোকাবিলায় যেসব বরাদ্দের কথা বলা হয় বাস্তবে এসব বরাদ্দের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে কমই পৌঁছেছে। ‘এক ইঞ্চি আবাদি জমিও ফেলে রাখা যাবে না’ প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণার পরও কৃষি উপকরণ সরবরাহের ঘাটতি ও উচ্চমূল্যের কারণে অনেক প্রান্তিক কৃষক স্বাভাবিক চাষাবাদে সক্ষম হননি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন ও জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সানজিদা আক্তার বলেন, কৃষিতে নারীর অংশগ্রহণ ক্রমান্বয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু কৃষি ব্যবস্থা নারীবান্ধব হচ্ছে না। ফলে বাজেটেও তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। কাঠামোগত বাধার কারণে নারীদের কৃষক হিসেবে স্বীকৃতি নেই।
বিআইডিএসের রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, নারীদের জন্য সুনির্দিস্ট কার্যক্রমের ভিত্তিতে বাজেট বরাদ্দ থাকতে হবে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য বাজেট বরাদ্দ অত্যন্ত অপ্রতুল। তাদের বাজার ব্যবস্থার অভিগম্যতার জন্য অবকাঠামোর উন্নয়ন জরুরি।
এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদার সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন—বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, মানবাধিকার কর্মী ও চাকমা সার্কেল রানী য়েন য়েন, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক রওশন জাহান মনি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং প্রমুখ।