তালেব রানা
ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন প্রেসিডেন্ট নন। যুক্তরাষ্ট্রে গত বছরের নভেম্বরের নির্বাচনের পর নানা বিতর্ক তৈরি করে তিনি হোয়াইট হাউজ ছেড়েছেন। এখনো নির্বাচনের ফল নিয়ে মনগড়া কথা বলছেন। কিন্তু রিপাবলিকান পার্টিতে এখন পর্যন্ত তার অবস্থান একটুও দুর্বল হয়নি। বরং বেশির ভাগ রিপাবলিকান নেতা এখনো ট্রাম্পের অনুগত! সর্বশেষ সিনেটে একটি বিলের ওপর ভোটাভুটিতেও ট্রাম্পের প্রতি বিশ্বস্ততা দেখিয়েছেন তারা।
গত ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে হামলা চালায় ট্রাম্পের সমর্থকরা। ঐ হামলায় পাঁচ জন নিহত হয়। এই ঘটনার তদন্তে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের বিল গত ১৯ মে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে পাশ হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার তদন্তে এ ধরনের কমিশন গঠন করা হয়েছিল। এই স্বাধীন কমিশনে দুই প্রধান দল থেকে ১০ জন সদস্য থাকার কথা ছিল। যারা চলতি বছরের শেষ নাগাদ তদন্ত করে সুপারিশ করবেন বলে বিলে বলা হয়।
মার্কিন ক্যাপিটলে হামলায় সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে উসকানির অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়টি তদন্ত করার উদ্দেশ্যেই স্বাধীন কমিশনের বিল প্রতিনিধি পরিষদে পাশ হয়। ট্রাম্প শুরু থেকেই এ ধরনের কমিশন গঠনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তিনি ডেমোক্র্যাটদের ফাঁদে পা না দেওয়ার জন্য রিপাবলিকানদের প্রতি আহ্বান জানান। সিনেটে শীর্ষ রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল বিলের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য দলীয় সিনটরদের কাছে ‘পারসোনাল ফেভার’ চান।
স্বাধীন কমিশন গঠনের বিলটি এগিয়ে নিতে হলে কমপক্ষে ৬০ সিনেটরের সমর্থন লাগত। সিনেটে বর্তমানে দুই দলের আসন ৫০-৫০। এক্ষেত্রে কমপক্ষে ১০ জন রিপাবলিকান সিনেটরকে বিলটির পক্ষে ভোট দিতে হতো। শুক্রবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ছয় জন রিপাবলিকান সিনেটর বিলটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ৩৫ জন রিপাবলিকান সিনেটর। আর ৯ জন রিপাবলিকান সিনেটর ভোটদানে বিরত ছিলেন। যে কারণে দ্বিদলীয় স্বাধীন কমিশন গঠন করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিই বিশ্বস্ততা দেখিয়েছেন রিপাবলিকান সিনেটররা। কারণ তারা মনে করছেন, এর মাধ্যমে তারা রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। গত নির্বাচনে ট্রাম্প পরাজিত হলেও তিনি ৭ কোটির বেশি ভোট পেয়েছেন। রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। এ কারণে তিনি ক্ষুব্ধ হন এমন কোনো ঝুঁকি ব্যক্তিগতভাবেও নিতে চান না অনেক রিপাবলিকান নেতা। অথচ ৬ জানুয়ারির পর দুই দলই এ ধরনের স্বাধীন কমিশন গঠনের মাধ্যমে তদন্তের ব্যাপারে সম্মত হয়েছিল।
সিনেটের ভোটাভুটিতে বেশির ভাগ রিপাবলিকান সিনেটর বিলের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় দলটির বেশ কয়েক জন নেতা বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। কমিশন গঠনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন আলাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মুরকাউস্কি। তিনি বলেন, রিপাবলিকান সিনেটররা স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক সাফল্যের জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ডেমোক্র্যাট সিনেটর চাক শুমার সমালোচনা করে বলেছেন, আমার রিপাবলিকান সহকর্মীরা সেদিনটি কি মনে করতে পারেন? ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভয়ে তারা ঐ দিনটির ভয়াবহতাকে চাপা দিতে চাইছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কয়েক সপ্তাহ আগেও শীর্ষ রিপাবলিকানরা এই কমিশন গঠনে সমর্থন দিয়েছিল; কিন্তু তারা রাজনৈতিক বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত তাদের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। তাদের ধারণা, এই তদন্ত ২০২২ সালের নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান সুসংহত করবে। একই সঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে রাগান্বিত করবে। ৬ জানুয়ারির ঘটনায় রিপাবলিকান সিনেটর মিচ ম্যাককোনেল যে অবস্থান নিয়েছিলেন শেষ পর্যন্ত তিনি রাজনৈতিক হিসাবনিকাশ করে সেখান থেকে সরে এসেছেন। তিনি হয়তো মেনে নিয়েছেন, তার এবং দলের ভবিষ্যত্ এখন বাইডেনের এজেন্ডার বিরোধিতার ওপর নির্ভর করছে।