ভালো লাগে প্রাকৃতিক দৃশ্য আঁকতে —সৈয়দা মাহমুদা করিম

  রাবেয়া বেবী

 

তার ভালো নাম সৈয়দা মাহমুদা করিম। মিনি করিম নামে চিত্রকলা জগতে তার পরিচিতি। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের প্রথম নারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পেইনটিংয়ে স্নাতক সম্মান আর প্রিন্টমেকিংয়ে স্নাতকত্তোর করেছেন চারুকলা থেকে। ভালোবাসা আর ভালোলাগার জায়গা থেকে দেশ-বিদেশে বেশ কিছু একক ও সম্মিলিত প্রদর্শনীও হয়েছে তার। চিত্রকলা পছন্দের বিষয় হলেও ক্রীড়াজগতে ছিল তার বলিষ্ঠ পদচারণা। ক্রিকেট, ফুটবল খেলায় ছিল তার সমান পারদর্শিতা। একটা প্রাইভেট কলেজে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘদিন। তারপর সরকারের ডাকে সারা দিয়ে এসেছেন দেশের চারুকলার সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখতে। দেশে-বিদেশে চিত্রকলার প্রদশর্নীরও আয়োজন করা।

দেশের চিত্রকলার প্রসার ঘটানো। তরুণ শিল্পীদের সুযোগ করে দেওয়া। এই বিষয় ট্রেনিংসহ নানারকম  কাজের নেতৃত্ব দেওয়াই তার দায়িত্ব। এমন এক দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকে মিনি করিম উপলব্ধি করেন তাকে বেশ ভালো কিছু কাজ করতে হবে। এক দিন তিনি না থাকলেও যেন মানুষ তার কাজের মাধ্যমে তাকে স্মরণ করে, তার কথা মনে রাখে। তাই বেশ ভালো কিছু প্রদর্শনীর আয়োজন করতে চান মিনি করিম। রাখতে চান তরুণদের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা। মিনি বলেন, ছবি আঁকার ক্ষেত্রে মানুষ নামিদামি জনপ্রিয় শিল্পীদের প্রাধান্য দেয় বেশি। আর সদ্য পাশ করা তরুণ শিল্পীদের পোঁড়াতে হয় অনেক কাঠ-খর। তাই তরুণশিল্পীদের একটা প্লাটফরম তৈরি করতে চাই। একজন নারী শিল্পীর পরিবার আর কাজের পরিবেশ নিয়ে জানতে চাইলে জানান, শিল্পের নারী-পুরুষ হয় না। আর চিত্রকলায় পুরুষ ভালো এ কথারও ভিত্তি নেই। তারপরও তিনি বলেন, মেয়েদের পক্ষে শিল্পর্চচা সামাজিক কারণেই অনেক কঠিন। তারপরও নারী সংসার সন্তান নিয়ে ভালো কাজ করছে। স্বামী আর পরিবারের পূর্ণ সহযোগিতায় নিজের পথ তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মিনি।

এক সন্তানের জননী মিনি নিজের কাজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলেন, ধৈর্যশীল মানসম্পন্ন চিত্রকলা আজ নারী হাতে বেশ ভালোই দেখা যায়। এযাবত্ তার পাঁচটি একক প্রদশর্নী হয়। ২০১৮ সালে নিউইয়র্ক-এর ম্যানহার্টনে ‘আমেরিকান কনটেমপোরারি মর্ডান আর্ট’-এর সহযোগিতায় তার শেষ একক প্রদর্শনী হয়। একে জীবনের একটা উল্লেখযোগ্য কাজ বলে মনে করেন মিনি। বিমূর্ত ছবি আঁকতে বেশি  ভালোবাসেন। আবার ভালো লাগে প্রাকৃতিক দৃশ্য আঁকতে। রঙ নিয়েও খেলা করা উপভোগ করেন। স্বপ্ন দেখেন চিত্রকলার সমৃদ্ধিতে নিজের দৃঢ় অবস্থান পাকাপোক্ত করার।