‘হামরা সরকারের কাচে কিচু চাই না, নদী ভাঙার হাত থাকি হামারঘরোক বাঁচাও’

নদী হামারঘরে সবকিচু কারি নিচে। এ্যাকনা ঘর আচিলো, তাও তিনদিন আগোত নদী গিলি খাছে। হামরা সোরকারের কাচে কিচু চাইনা, নদী ভাঙার হাত থাকি হামারঘরোক বাঁচাও। রবিবার (৩০ মে) সকালে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের কুন্দেরপাড়া গ্রামের ৬০ বছর বয়সী নবীজান বেওয়া। 

একই গ্রামের কৃষক আবদুল বাছেত মিয়া (৫৫) বলেন, একদিকে করোনার ভয়, আরেদিকে নদী ভাঙার ভয়। হামরা কুনটি যামো। গত দশদিনের নদীভাঙ্গনে তার প্রায় পাঁচবিঘা জমি এখন নদীর গর্ভে বিলীন। 


   
বর্ষা শুরু হতে না হতেই ও দফায় দফায় বর্ষণের কারণে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে গত দশদিনের ব্যবধানে গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের কুন্দেরপাড়া ও খারজানি গ্রামের অর্ধশতাধিক ঘড়বাড়ি, ৫০ একর আবাদি জমি ও অসংখ্য গাছপালা বিলীন হয়েছে। ভাঙনের কারণে বর্তমানে অসংখ্য ঘরবাড়ি হুমকির সম্মুখীন। আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে দেড় শতাধিক মানুষ। আশ্রয়হীনরা সরকারি জায়গা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। 

রবিববার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, নদী ভাঙা মানুষের দুর্ভোগের চিত্র। কেউ ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন, কেউ নদ থেকে দুরে নতুন করে একচালা ঘর তুলছেন। অনেকে আসবাবপত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। এদিকে গৃহহীনরা সরকারি জায়গায় আশ্রয় নিলেও তারা গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। নলকূপ বিলীন হওয়ায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব। 

কুন্দেরপাড়া গ্রামের কৃষক হাসমত আলী (৪৫) বলেন, গত দশদিনে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে আমার তিনটি ঘর ও বসতভিটা বিলীন হয়েছে। ঘরে থাকা সাতমন ধান ভেসে গেছে। কিন্তু ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। 

পার্শ্ববর্তী খারজানি গ্রামের কৃষক আবদুল ছালাম (৫০) নিজের বলেন, এ্যাক বচর আগোত হামরা গেরেসতো আচিনো। হামারঘরে জমাজমি, বাড়িভিটা সগি আচিলো। নদী ভাঙি হামরাঘরে একুন কিচুই নাই। কামলার কাম না করলে পেটোত ভাত যায়না। মানসের জাগাত এ্যাকনা ঘর তুলি আচিনো, তাকো সাতদিন আগে ভাঙি গেচে। তকন থাকি বানদোত (বাঁধে) ছাপরা (একচালা ঘর) তুলি আচি। 

কামারজানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুস ছালামের ভাষ্যমতে, দফায় দফায় বর্ষণ ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন শুরু হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ২-৩ ফুট পরিমাণ এলাকা ভাঙছে। ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের শরণাপন্ন হলেও কোনো কাজ হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
      
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, কুন্দেরপাড়া ও খারজানি গ্রাম দুইটি ব্রহ্মপুত্র নদের ওপারে অবস্থিত। ওই দুই গ্রামে ভাঙন রোধে বর্তমানে কোনো কর্মসূচি নেই বলে জানা তিনি। 

ইত্তেফাক/এএইচপি