দুই বছরেও হয়নি ২০ মিটার ব্রিজের পুনর্নির্মাণ

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া

দুই পাশে রয়েছে সড়ক, মধ্যখানে দুইটি পিলার। এক পাশের পিলার থেকে অন্য পিলারের দূরত্ব ২০ মিটার। এই ২০ মিটারে ব্রিজ পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় প্রায় চার কিলোমিটার পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে ১০ গ্রামের প্রায় ১৬ হাজার মানুষকে। বগুড়া পৌর এলাকায় অবস্থিত ধরমপুর-মাটিডালী সড়কে সুবিল খালের ওপর উল্লেখিত ২০ মিটার ব্রিজ ভেঙে যায় বছর দুই আগে। তারপর সেটি আর মেরামত করা হয়নি। মাস দুয়েক আগে এই সড়কে ভাঙা ব্রিজের নিচে পড়ে আশিক নামে (৩০) এক মোটরসাইকেল আরোহী মারা গেছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।  বগুড়া শহরের ধরমপুর-মাটিডালী এলাকায় রয়েছে বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এই সংযোগ সড়ক দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক, ছোট যানবাহনসহ প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করত। আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে শহরের বিসিক শিল্পনগরীর কারখানায় কর্মরত সহস্রাধিক শ্রমিক এই সড়ক দিয়েই স্বল্প সময়ে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে যেত। কিন্তু ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ব্রিজের অন্য পাশে স্থানীয়দের পারিবারিক গোরস্থান ও ঈদগা মাঠ রয়েছে। ভাঙা ব্রিজের পাশে কাঠ দিয়ে তৈরি বিকল্প ব্রিজটিও নড়বড়ে, কোনোমতে স্থানীয়রা হেঁটে চলাচল করে। প্রায় দুই বছর আগে বগুড়া পৌর এলাকায় ধরমপুর-মাটিডালী সড়কে সুবিল খালের ওপর নির্মিত ব্রিজটি ভেঙে যায়। এলাকাবাসী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগকে বিষয়টি জানায়। তারপর দুই বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এখনো মেরামত হয়নি। বগুড়া চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক হাসান আলী আলাল জানান, ঐ রাস্তা দিয়ে সাধারণ মানুষ ছাড়াও বিসিক শিল্প এলাকায় বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকরা যাতায়াত করে থাকে। ছোট কুমিড়া, নিশিন্দারা, বড় কুমিড়া, বানদীঘি, ধরমপুর, ল্যাংড়াবাজার, শাওল, আড়োলা থেকে শ্রমিকরা সহজেই তাদের কর্মস্থলে আসত। ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় তাদের বাড়তি কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আসতে হয়।

বগুড়ার ধরমপুর বাজার দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, ব্রিজের এপাশে বসবাসরত ৫ থেকে ৬ হাজার মানুষের পারিবারিক গোরস্থান ভাঙা ব্রিজের অন্য পাশে। এছাড়া সেখানে একটি ঈদগা মাঠ রয়েছে। কোনো মানুষ মৃত্যুবরণ করলে কাঠের ব্রিজ দিয়ে নিয়ে যেতে কষ্ট হয়। এ কারণে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে ট্রাকে করে লাশ নিয়ে এসে দাফন করতে হয়। তিনি বলেন, ধরমপুর এলাকার বাসিন্দা আশিক মাসদুয়েক আগে রাতে মোটরসাইকেল নিয়ে এই সড়ক দিয়ে আসার সময় ব্রিজের নিচে পড়ে আহত হন এবং পরে মারা যান।  বগুড়া পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম বাদশা বলেন, ব্র্রিজটি নির্মাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এলাকাবাসী তার কাছে এ ব্যাপারে সহযোগিতা কামনা করেছেন। তারা এলজিইডির কাছেও আবেদন করেছে ব্রিজটি নির্মাণের জন্য। খুব শিগিগরই ব্রিজ নির্মাণ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এলজিইডি বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. গোলাম মোর্শেদ বলেন, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে দরপত্র আহ্বান করে ধরমপুর ব্রিজটির নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু হবে। ইতিমধ্যেই ব্রিজ নির্মাণের জন্য নকশা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও অনুমোদন পেলে খুব দ্রুত কাজ শুরু করা যাবে।