বিশেষ প্রতিনিধি
দেশের টেক্সটাইল খাতে ব্যবহার হওয়া খুচরা যন্ত্রাংশ বিনা শুল্কে আমদানির দাবি করা হয়েছে। এ খাতের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) পক্ষ থেকে আগামী বাজেটে সন্নিবেশ করার জন্য এ সংক্রান্ত দাবি অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে। দেশের প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতে ব্যবহার করা এসব যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে বর্তমানে ২৬ দশমিক ২ থেকে ১০৪ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বলবত্ রয়েছে। বিটিএমএ বলছে, এত বেশি শুল্ক দিয়ে আমদানি করা যন্ত্রাংশ দিয়ে প্রতিযোগিতামূলকভাবে কারখানা চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
বিটিএমএ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলী খোকন ইত্তেফাককে বলেন, প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতের স্পিনিং, উইভিং ও ডায়িং-প্রিন্টিং-ফিনিশিং মিল ও তৈরি পোশাক খাত অত্যাধুনিক কম্পিউটারাইজড মেশিনারিজে সমৃদ্ধ। যেসব কোম্পানি থেকে মেশিনারিজ আমদানি করা হয় সেসব কোম্পানি থেকেই পরে খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানি করা হয়। এ কারণে আমদানি করা যন্ত্রাংশ সংশ্লিষ্ট কারখানা ছাড়া অন্য কোনো কারখানায় ব্যবহার হবার আশঙ্কা থাকে না। বিটিএমএ তাদের বাজেট প্রস্তাবনায় বলেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট এইচএস কোডের কাপড় আমদানি পর্যায়ে প্রতি কেজি ট্যারিফ ভ্যালু তিন মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ কাপড় উত্পাদনে ব্যবহার করা সুতার উত্পাদন খরচ তিন মার্কিন ডলার বা আরো বেশি। এর সঙ্গে অন্য উপাদানগুলো যোগ হলে কাপড়ের ট্যারিফ ভ্যালু পুনঃবিবেচনার দাবি রাখে। এদিকে, স্পিনিং ও উইভিং মিলগুলো রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পে ডিমান্ড এক্সপোর্টার্স হিসাবে সুতা ও কাপড় সরবরাহ করছে। ফলে রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পে সুতা ও কাপড়ের আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে কমে গিয়েছে বলে বিটিএমএ মনে করছে। সংগঠনের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে এমনিতেই দেশীয় শিল্প বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে। এসব বিবেচনায় রপ্তানি মূল্যের ওপর উেস কর শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এছাড়া তিনি টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিলে ব্যবহার করা সব প্রকার ফাইবারকে শুল্কমুক্ত আমদানির বিধানসহ সব প্রকার সুতার ওপর সমহারে মূসক (তিন টাকা) ধার্যের দাবিও জানান বিটিএমএ প্রেসিডেন্ট।
এছাড়া ডিমান্ড এক্সপোর্টার্সদের জন্য ইউডি জারির ক্ষেত্রে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসিকেই মূল হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে বিটিএমএ মনে করছে।