চট্টগ্রামে ভূমি চিহ্নিত করা হলেও সিডিএ প্রকল্পের কোনো উদ্যোগ নেই

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) কর্তৃক নগরীর বিভিন্ন স্থানে প্রকল্প এলাকা চিহ্নিত করলেও এক যুগেও প্রকল্প গ্রহণের কোনো উদ্যোগ নেই। এমনকি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক) কর্তৃক অনুমোদিত প্রকল্প বাস্তবায়নেও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে ঐ সব ঘোষিত প্রকল্প এলাকায় কেউ দীর্ঘদিন ধরে কোনোপ্রকার স্থাপনা নির্মাণে অনুমোদন পাচ্ছে না। আবার জমির কেনা-বেচা কিংবা জমির মালিকরা ক্ষতিপূরণও পাচ্ছেন না। সিডিএ থেকে মাঝে-মধ্যে প্রকল্প গ্রহণের কথা বলা হলেও আবার অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। সিডিএর প্রকল্পভুক্ত এলাকার লোকজন দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষের কর্তাব্যক্তিদের কাছে ধরনা দিয়েও কোনো সুরাহা পাচ্ছেন না।

লোকজনের মতে, হয় প্রকল্পের জমির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক। অন্যথায় প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত নেই উল্লেখ করে অবমুক্ত করা হোক। সিডিএর সিদ্ধান্তহীনতার কারণে লোকজন ব্যাপকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে জানা যায়। কারণ অনেকে সিডিএ থেকে প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণের টাকা দিয়ে অন্যত্র জায়গা কিনে বাসাবাড়ি করার পরিকল্পনা নিয়ে বসে আছে। সিডিএ কর্তৃক জমি অধিগ্রহণ কিংবা ছাড় না দেওয়ার ফলে অনেকের পরিবার আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে জানা যায়।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এক যুগ আগে ফতেয়াবাদ এলাকায় উপশহর গড়ে তোলার জন্য বিশাল এলাকা চিহ্নিত করে। নগরীর হাটহাজারীর রোডসংলগ্ন উক্ত এলাকায় সিডিএর আধুনিক উপশহর গড়ে তোলার ঘোষণার পর এ পর্যন্ত ঐ এলাকায় কোনোপ্রকার ছোট-বড় ভবন স্থাপনা নির্মাণে সিডিএ থেকে নকশা অনুমোদন দেওয়া বন্ধ রয়েছে। সিডিএর প্রকল্প হওয়ার ঘোষণায় জমির ক্রয়-বিক্রয়ও বন্ধ রয়েছে। অথচ সিডিএ থেকে এখনো সরকারের কাছে কোনো প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পাঠানো হয়নি। জানা যায়, এমনকি ঐ প্রকল্পের জন্য সুনির্দিষ্ট জায়গাও চিহ্নিত করা হয়নি। ফলে এলাকার লোকজন নতুন প্ল্যান গ্রহণ করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে নগরীর অক্সিজেন এলাকায় সিডিএর অনন্যা আবাসিক এলাকার ২য় পর্যায় গ্রহণের জন্য একনেক কর্তৃক প্রায় সাত বছর পূর্বে অনুমোদন হলেও সিডিএ এখনো তা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। প্রকল্পটি একনেক কর্তৃক অনুমোদনের সময় জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ দেড় গুণ প্রদানের সরকারি নিয়ম ছিল। কিন্তু বর্তমানে মৌজা মূল্যের তিন গুণ প্রদান করার নিয়ম। ফলে একনেক কর্তৃক অনুমোদনের সঙ্গে সঙ্গে জমি অধিগ্রহণ করে ক্ষতিপূরণ করা হলে জনগণের মধ্যে কাঠাপ্রতি পাঁচ-ছয় লাখ টাকায় প্লট বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু বর্তমানে তিন গুণ ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে প্লটের উচ্চ মূল্যে বিক্রি আদৌ বাস্তবায়নযোগ্য হবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

সিডিএর তথ্যানুযায়ী গত এক যুগ ধরে নগরবাসীর আবাসন সমস্যা নিরসনে সিডিএ কোনো আবাসিক প্রকল্প গ্রহণ করেনি বরং সিডিএর ইতিপূর্বেকার আবাসিক প্রকল্প এলাকার খেলার মাঠ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ জরুরি প্রয়োজনীয় অনেক জমি প্রভাবশালী লোকজনের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।