মামুনুল হকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বছরে ৬ কোটি টাকা লেনদেন

হেফাজতে ইসলামের সদ্য বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এক বছরে প্রায় ৬ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পেয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল রবিবার বিকালে ডিবি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ডিবির যুগ্ম-কমিশনার মাহবুব আলম। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি হেফাজতের বেশ কয়েকজন নেতাকে গ্রেফতার করার মধ্য দিয়ে অনেক মামলার তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে। হেফাজতের অর্থনৈতিক বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও নথিপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মামুনুল হকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বছরে প্রায় ৬ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়াও সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া হেফাজতের সাবেক কমিটির অর্থ সম্পাদক কাসেমীর অ্যাকাউন্টেও বেশ কিছু লেনদেনের তথ্য রয়েছে। সেগুলোরও তদন্ত চলছে।

এই অর্থায়নগুলো হয় বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাধ্যমে। প্রবাসীরা মাদ্রাসা বা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য হেফাজতের কাছে দান করে থাকে।                এর মধ্যে রোহিঙ্গাদের জন্যও তারা দান করে থাকেন। এছাড়াও হেফাজতেরও কিছু কিছু টাকা বিদেশ থেকে আসে। এই টাকাগুলো হেফাজত ইসলামের নেতারা সঠিকভাবে মেইনটেইন করতেন না। তারা তাদের ইচ্ছামতো টাকাগুলো খরচ করতেন। এমনকি তারা এই টাকা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ব্যবহার করেছেন। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের জন্য পাঠানো টাকাও হেফাজত নেতারা নিজেদের কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করতেন। এছাড়াও বিপুল পরিমাণ টাকা তারা তছরুপ করেছে। হেফাজত নেতারা নিজেদের বাড়ি-গাড়ি করেছেন।

তদন্তে দেখা গেছে, মাদ্রাসার সংগঠন বেফাক কিংবা হায়াতুল উলয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন কিন্তু তারাও হেফাজতের কাছে জিম্মি হয়ে যাচ্ছে। এসব সংগঠন সঠিকভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। এ ধরনের অর্থ যাদের হাতে চলে যাচ্ছে তারাই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। অনেক ভালো ভালো আলেম-ওলামাও এই সিন্ডিকেটের কাছে অসহায় হয়ে পড়েন। এসব বিষয়ে পৃথক মামলা হতে পারে বলেও জানান তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে মাহবুব আলম বলেন, ২০১৩ সালের ১৪টি মামলা আমরা তদন্ত করছি। এছাড়াও নতুন বেশ কয়েকটি মামলা আমরা পেয়েছি। অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাও এসব বিষয় নিয়ে কাজ করছে। খুব দ্রুতই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।