ইসরাইলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরোধী জোটে যোগদানের ঘোষণা দিয়েছেন কট্টরপন্থি নেতা নাফতালি বেনেট। গতকাল রবিবার তিনি বিরোধী নেতা জায়ের ল্যাপিডের জোটে যোগদানের কথা জানান। এর ফলে দেশটিতে নেতানিয়াহুর দীর্ঘ ১২ বছরের শাসনের অবসান হচ্ছে। নেতানিয়াহু বেনেটের এই সিদ্ধান্তকে জনগনের সঙ্গে প্রতারণা বলে মন্তব্য করেছেন। খবর রয়টার্স ও আলজাজিরার
নিজের ইয়ামেনা পার্টির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এক টেলিভিশন ভাষণে বেনেট বলেন, আমি আমার বন্ধু জায়ের ল্যাপিডের ঐকমত্যের সরকারে যোগ দিচ্ছি। তিনি বলেন, হয় ঐকমত্যের সরকার হবে, না হয় দুই বছরে পঞ্চমবারের মতো পার্লামেন্ট নির্বাচন হবে। কট্টরপন্থি নেতা ৪৯ বছর বয়সী নাফতালি বেনেটই হচ্ছেন সরকার গঠনের কিংমেকার। পার্লামেন্টে তার ইয়ামেনি পার্টির ছয়টি আসন রয়েছে। তার যোগদানের ফলে নতুন সরকারে বাম, ডান ও মধ্যপন্থি সবার স্থান হবে। সাম্প্রতিককালে বেনেট চুপ ছিলেন। জানা গেছে, বিরোধী জোটের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তি হয়েছে। নেতানিয়াহুর স্থলে এখন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পাচ্ছেন বেনেট। এরপর পর্যায়ক্রমে ল্যাপিড প্রধানমন্ত্রী হবেন। বেনেটের ঘোষণার পর এক প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহু বলেছেন, এটা শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ প্রতারণা। কারণ বেনেট জনগনের কাছে অঙ্গীকার করেছিলেন যে তিনি কখনো ল্যাপিডের সঙ্গে যোগ দেবেন না। নেতানিয়াহু এই সরকারকে ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেন। মধ্যপন্থি ল্যাপিডকে (৫৭) এখন বুধবারের মধ্যে মন্ত্রিসভা গঠন করতে হবে।
লিকুদ পার্টির নেতা নেতানিয়াহুও ধারণা করছিলেন যে, তার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। গত ২৩ মার্চ দেশটিতে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। নেতানিয়াহুই প্রথম নেতা, যিনি ইসরাইলে শাসনক্ষমতায় রেকর্ড করেছেন। দেশটিতে দুই বছরে চারটি পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আদালতে দুর্নীতির মামলা চলমান। যদিও তিনি দুর্নীতির সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। নেতানিয়াহু বিরোধী জোটকে এখন পার্লামেন্টের আরব সদস্যদের সমর্থন নিতে হবে। কিন্তু সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনেটের নীতির ঘোর বিরোধী, বিশেষ করে পশ্চিম তীরে আরো বসতি স্থাপন এবং রাজধানী ইস্যুতে। তবে নতুন সরকার করোনা ভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতির পুনরূদ্ধারেই বেশি মনোযোগ দেবে বলে জানিয়েছে। প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) এর কর্মকর্তা এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, বেনেটের ঘোষণা থেকেই ধারণা পাওয়া যাচ্ছে, ইসরাইলের নতুন সরকার হবে খুবই কট্টর। ফলে নেতানিয়াহুর সরকারের সঙ্গে এই সরকারের তেমন একটা পার্থক্য থাকবে বলে মনে হচ্ছে না। নেতানিয়াহু সরকার গঠনের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিলেন। তিনি কট্টরপন্থি আরেক নেতা সার গিডিওনকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে, গিডিউন প্রথম ১৫ মাস প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর নেতানিয়াহু দুই বছরের জন্য এবং পরবর্তী সময় বেনেট প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু দুর্নীতিতে অভিযুক্ত হওয়ায় গিডিওন নেতানিয়াহুর সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।
অন্যদিকে গাজায় ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চললেও ফিলিস্তিনে ইসরাইল গুপ্তহত্যা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। রামাল্লা ও পশ্চিম তীরে গুপ্তহত্যার ঘটনা বেশি ঘটছে। রাতের অন্ধকারে অনেককে তুলে নেওয়া হচ্ছে এবং গুলি করে মেরে ফেলা হচ্ছে।