অতি গোপনে বাগদত্তা ক্যারি সিমন্ডসকে বিয়ে করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। গত শনিবার দুপুরের পর ওয়েস্টমিনিস্টার ক্যাথেড্রালে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, খুব ঘনিষ্ঠ কিছু আত্মীয় ও বন্ধুদের উপস্থিতিতে এই বিয়ের অনুষ্ঠানটি হয় বলে বেশ কয়েকটি ব্রিটিশ সংবাদপত্রের খবরে বলা হচ্ছে। তবে ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে কোনো বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৮২২ সালে লর্ড রবার্ট ব্যাঙ্কস জেকিনসন, সেকেন্ড আর্ল অব লিভারপুল প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় বিয়ে করেছিলেন মেরি চেস্টারকে। এরপর জনসনই প্রথম ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী যিনি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বিয়ে করলেন। গতকাল রবিবার দ্য মেইলের খবরে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানটিতে ৩০ জন অতিথিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ইংল্যান্ডে করোনা মহামারিকালে নিয়ম অনুযায়ী কোনো অনুষ্ঠানে অতিথির সর্বোচ্চ অনুমোদিত সংখ্যাই হচ্ছে ৩০ জন। ক্যাথলিক এই অনুষ্ঠানটি আয়োজনের প্রস্তুতিতে গির্জার অল্প কয়েকজন কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন। বিয়ে পড়ান ফাদার ড্যানিয়েল হামফ্রেস।
দ্য সান বলছে, ডাউনিং স্ট্রিটের সিনিয়র কর্মকর্তারাও এই বিয়ের ব্যাপারে অবগত ছিলেন না। শনিবার ব্রিটিশ সময় বেলা দেড়টার কিছু পরে ওয়েস্টমিনিস্টার ক্যাথেড্রাল থেকে সাধারণ জনগণকে সরে যেতে বলা হয়। এর আধা ঘণ্টা পর একটি লিমোতে চড়ে সেখানে হাজির হন সাদা পোশাক পরিহিত ক্যারি সিমন্ডস। শনিবার রাতে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট ছেড়ে যাচ্ছে বাদকেরা, এমন ছবিও তোলা হয়েছে। এই খবর প্রকাশের পর বেশ কয়েক জন রাজনীতিক জনসনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ওয়ার্কস অ্যান্ড পেনশনস মন্ত্রী টেরেস কফি এক টুইট বার্তায় বিয়ে উপলক্ষ্যে বরিস জনসন এবং ক্যারি সিমন্ডসকে অভিনন্দন জানান। নর্দার্ন আয়ার?ল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার আরলেন ফস্টার টুইটারে তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।
যদিও মাত্র সপ্তাহখানেক আগেও ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন আগামী বছরের জুলাইয়ে তার বাগদত্তা ক্যারি সিমন্ডসকে বিয়ে করবেন। সেজন্য বন্ধুদের ‘সেইভ-দ্য-ডেট’ কার্ডও পাঠিয়েছেন।
৫৬ বছর বয়স্ক বরিস জনসনের সঙ্গে ৩৩ বছরের সিমন্ডসের প্রেমের খবর গণমাধ্যমে প্রথম আসে ২০১৯ সালে। সিমন্ডস যখন কনজারভেটিভ পার্টির যোগাযোগ সহকারী, সেই সময় জনসনের সঙ্গে তার প্রেমের সূচনা হয়। জনসন তখন তার দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করছিলেন, ঐ সংসারে তাদের চার সন্তান রয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রী মেরিনা উইলারের সঙ্গে বিচ্ছেদের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয় ২০১৯ সালে। এরপর সিমন্ডসকে নিয়ে ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে থাকতে শুরু করেন জনসন। ডাউনিং স্ট্রিটে বসবাসকারী প্রথম অবিবাহিত যুগল তারাই।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাদের বাগদানের খবর প্রকাশ হয়। গত বছর করোনায় আক্রান্ত হয়ে জনসনের শারীরিক অবস্থা সংকটজনক অবস্থায় পৌঁছে। হাসপাতাল থেকে ফেরার সপ্তাহখানেক পরই ছেলের বাবা হন জনসন।
এটি বরিস জনসনের তৃতীয় বিয়ে। তবে ৩৩ বছর বয়সি সিমন্ডসের এটিই প্রথম বিয়ে। বিয়ের আসরে সিমন্ডস যে সাদা গাউনটি পরেছিলেন, তার মুখাবরণ ছিল না। তাদের এক বছরের ছেলেও বিয়েতে উপস্থিত ছিল। বর্তমানে সিমন্ডস প্রাণী অধিকার নিয়ে কাজ করছেন।