ভারতের বেঙ্গালুরু থেকে পালিয়ে আসা আশরাফ মন্ডল নামে এক ব্যক্তিকে ঝিনাইদহ শহরের একটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার থেকে আটক বরেছে র্যাব। তিনি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার নাদপাড়া গ্রামের আয়েন উদ্দিন মন্ডলের ছেলে।
রবিবার (৩০ মে) সকালে ঢাকা থেকে আসা র্যাবের একটি টিম তাকে আটক করে। নাদপাড়া গ্রামবাসীর ধারণা ভারতের বেঙ্গালুরুতে এক বাংলাদেশি তরুণী নির্যাতনের ঘটনায় আটক টিকটক হৃদয় বাবুর সহযোগী হিসাবে তাকে আটক করা হতে পারে।
আশরাফ মন্ডলের প্রতিবেশী আলহাজ্ব আব্দুস সাত্তার মোল্লা জানান, আশরাফ ছোটবেলা থেকে গান বাজনা ও কৌতুক করে বেড়াতো। দরিদ্র ঘরের সন্তান গ্রামের মাদরাসায় পড়াশোনা করতো। মাঠে কামলার কাজ করতো। এরপর ঢাকা চলে যায়। মাঝে মাঝে বাড়ি আসতো। এরপর ভারতে চলে যায় এবং বেঙ্গালুরুতে থাকতো এবং মাঝে মাঝে বাড়িতে আসতো। দ্রুত তার অবস্থার উন্নতি ঘটে। বাড়িতে বিল্ডিং করে। মাঠে জমিও কিনে। রবিবার সকালে র্যার তার বাড়িতে আসে। তখন সে বাড়ি ছিল না। ঝিনাইদহে কোয়ারেন্টাইনে ছিল। বাড়ি থেকে তার স্ত্রীর পাসপোর্ট, ভারতের একটি নাগরিকত্ব সনদপত্র, দুটি পেন ড্রাইভ ও কয়েকখানা ক্রেডিট কার্ড জব্দ করে র্যাব। তার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে র্যাব ঝিনাইদহ যায়। বিকালে আবার স্ত্রীকে বাড়িতে রেখে যায়।
সারুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নাদপাড়া গ্রামের মেম্বর মো: ওয়াজেদ আলী জানান, বেঙ্গালুরু যাওয়ার পর তার অবস্থা ফুলে ফেঁপে ওঠে। সেখানে কী কাজ করতো তা তিনি বলতে পারেন না। তার বাড়িতে এসি পর্যন্ত আছে।
আশরাফের বাবা ময়েন উদ্দিন মন্ডল বলেন, ছেলে তাকে ও তার মাকে বেঙ্গালুরুতে নিয়ে যায়। সেখানে একমাস খাকার পর বাড়ি ফিরে আসেন। ছেলে তাকে জানায়, বেঙ্গালুরুতে গাড়ির ব্যবসা করেন। তিনি আরও জানান, ৮-১০ বছর আগে ছেলে বেঙ্গালুরুতে যায়। আশরাফরা ৩ ভাই ও ৪ বোন। বড় ভাই গ্রামে ভ্যান চালায়। ১২ মে বেঙ্গালুরু থেকে বাড়িতে আসে। জানাজানি হলে পুলিশ তাকে ঝিনাইদহের কোয়ারেন্টাইনে নিয়ে যায়।
তবে র্যাব-৬ এর ঝিনাইদহ কোম্পানী এ ব্যাপারে কিছু জানেন না বলে জানায়। ঢাকা থেকে আসা র্যাবও মিডিয়াকে কিছু বলেনি।
ইত্তেফাক/এসজেড