ভারতের বেঙ্গালুরু থেকে পালিয়ে আসা আশরাফ মণ্ডল নামে একজনকে ঝিনাইদহ শহরের একটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার থেকে আটক করেছে র্যাব। তিনি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার নাদপাড়া গ্রামের আয়েন উদ্দিন মণ্ডলের ছেলে। গতকাল রবিবার সকালে ঢাকা থেকে আসা র্যাবের একটি টিম তাকে আটক করে। জানা গেছে, বেঙ্গালুরুতে বাংলাদেশি তরুণী নির্যাতনের ঘটনায় আটক টিকটক হূদয় বাবুর সহযোগী হিসেবে তাকে আটক করা হতে পারে।
এদিকে ভিডিও প্রচার হওয়ার পর টিকটক হূদয় বাবুর আরেক সহযোগী আলামিনের (২৪) বাড়ি যশোর শহরের চাঁচড়া মধ্যপাড়া এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওতে লাল টপস পরা তরুণী তানিয়ার বাড়ি যশোরে বলে জানা গেছে। তবে পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি আলামিন ও তানিয়ার বাড়ি যশোরে কি না।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) বেলাল হোসাইন গত রাতে ইত্তেফাককে বলেন, ভারতের তরুণী নির্যাতনের ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় জড়িত কারো বাড়ি যশোরে এমন তথ্য তারা নিশ্চিত হতে পারেননি। এ ব্যাপারে গোয়েন্দা তত্পরতা চলছে বলে তিনি জানান।
ঝিনাইদহের আশরাফ মণ্ডলের প্রতিবেশী আলহাজ আব্দুস সাত্তার মোল্লা জানান, আশরাফ ছোটবেলা থেকেই গানবাজনা ও কৌতুক করে বেড়াতেন। বেঙ্গালুরুতে যাওয়ার পর তার অবস্থার উন্নতি ঘটে। বাড়িতে বিল্ডিং তৈরি এবং মাঠে জমিও কেনেন। রবিবার সকালে র্যাব তার বাড়িতে গিয়ে পাসপোর্ট, ভারতের একটি নাগরিকত্ব সনদপত্র, দুটি পেনড্রাইভ ও কয়েকটি ক্রেডিট কার্ড জব্দ করে। আশরাফের বাবা ময়েন উদ্দিন মণ্ডল বলেন, ৮-১০ বছর আগে ছেলে বেঙ্গালুরুতে যান। একসময় ছেলে তাকে ও তার মাকে বেঙ্গালুরুতে নিয়ে যান। সেখানে এক মাস থাকার পর তারা বাড়ি ফিরে আসেন। ছেলে তাকে জানান, বেঙ্গালুরুতে গাড়ির ব্যবসা করেন।
এদিকে, গা ঢাকা দেওয়া আলামিন যশোরের চাঁচড়া মধ্যপাড়া এলাকার ভ্যানচালক মনু মিয়ার ছেলে। এ ব্যাপারে মনু মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘আলামিন ভালো না। বাইরে থেকে আলামিনের কাছে লোক আসত। ঘরে বসে তারা কী সব (ইয়াবা) খেত। তাই আট মাস আগে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছি। শুনেছি, আলামিন ভারতে গেছে, তার বউ বাপের বাড়ি। সেখানে সে কী করছে জানি না। তার সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই।’ ভিডিওতে আলামিন গোলাপি ফুলহাতা গেঞ্জি ও হাফপ্যান্ট পরিহিত এবং তার পায়ে কালো রাবারের ব্যান্ড রয়েছে। সূত্র আরো জানিয়েছে, ভিডিওতে থাকা লাল ফুলহাতা টপস পরা মেয়েটির নাম তানিয়া। এই তানিয়ার বাড়ি যশোরের অভয়নগর উপজেলার বাঘুটিয়া গ্রামে।
তানিয়াকে আলামিন স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভারতে নিয়ে গেছেন। আলামিন ও তানিয়া কেউই এখনো আটক হননি। তারা গা ঢাকা দিয়েছেন। এছাড়া ভিডিওতে ডালিম ও সবুজ নামে আরো দুই যুবক ছিলেন। তারাও পালিয়েছেন। এদিকে ভারতের একটি সূত্র জানিয়েছে, হূদয় বাবু, আলামিনসহ এই চক্র ভারতের বেঙ্গালুরুর কোর্টলোর এলাকায় থাকেন। সেখানে ‘রাফি’ নামে একজনের আস্তানা রয়েছে। এই রাফিই হলেন আশরাফ মণ্ডল।