মালয়েশিয়ায় নেওয়ার কথা বলে মিরসরাইয়ে ছেড়ে দিল দালালরা

নোয়াখালীর ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্পে চোখ পড়েছে দালালদের। দালালরা এখান থেকে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে বের করে দিচ্ছে। রবিবার মধ্যরাতে এরকম একটি ঘটনা ঘটে। দালালরা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১০ রোহিঙ্গাকে সারা রাত সমুদ্রে ঘুরিয়ে ভোরে মিরসরাই উপকূলে নামিয়ে দেয়। পরে পুলিশ তিন দালালসহ ১০ রোহিঙ্গাকে আটক করে।

জানা যায়, মালয়েশিয়া নেওয়ার কথা বলে নোয়াখালীর ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে তিন শিশুসহ ১০ রোহিঙ্গা নিয়ে আসে দালালরা। প্রতি জন রোহিঙ্গাকে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ট্রলারে করে মালয়েশিয়া নেওয়ার চুক্তি করে স্থানীয় তিন দালাল। রবিবার মধ্যরাতে রোহিঙ্গারা দালালের সাহায্যে ইঞ্জিনচালিত বোটে করে উপজেলার ইছাখালীর চরশরত্ এলাকায় আসে। এ সময় মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ খবর পেয়ে রোহিঙ্গাদের পালাতে সাহায্য করা দালাল চক্রের তিন সদস্যসহ ১০ রোহিঙ্গাকে আটক করে।

পুলিশ জানায়, রবিবার রাতে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে দালালদের সাহায্যে পালিয়ে ইঞ্জিনচালিত বোটে সাগর পার হয়ে তিন শিশুসহ ১০ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ মিরসরাইয়ের ইছাখালী এসে অবস্থান নেয়। আটককৃত রোহিঙ্গারা হলো—নূরজাহান বেগম (২০), রেহানা আক্তার (১৯), আছিয়া বেগম (১৮), নূর খাইয়াছ (২৫), মিনারা বেগম (২০), মনিয়া বেগম (২০), কহিনা আক্তার (৩২), জিসান (১০), জান্নাতুল নাঈমা (৮) ও জেসমিন আক্তার (১২)। আটক হওয়া দালাল চক্রের সদস্যরা হলো—নোয়াখালীর সুবর্ণচরের বেলাল হোসেন, একই এলাকার মো. জুয়েল ও সন্দ্বীপ উপজেলার দিদারুল আলম। জোরারগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হেলাল উদ্দিন চৌধুরী জানান, এসব রোহিঙ্গা দালাল চক্রের সাহায্যে সাগর পার হয়ে জোরারগঞ্জের ইছাখালী এলাকায় আসলে খবর পেয়ে তাদের আটক করা হয়। দালাল চক্রের বিরুদ্ধে মানব পাচার আইনে ও রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বৈদেশিক আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গারা মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য দালালের সঙ্গে প্রতি জন ২০ হাজার টাকা করে চুক্তি করে। তারা মিরসরাইয়ের চরশরত্ এলাকায় আসার পর পুলিশের হাতে আটক হন।

ইত্তেফাক/এসএ