স্বপ্নবাজ তরুণ উদ্যোক্তার পথচলা

>> সৌরভ শাহরিয়ার

একাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি কাজ করছেন উদ্যোক্তা ও গ্রামীণ বিষয়ক গবেষক হিসেবে। সেইসঙ্গে লেখালেখিও করেন। বলছি চট্টগ্রামের ছেলে মোহাম্মদ ইয়াসির বিন তালেবের কথা। তিনি এবং তার বন্ধু নিরবাস মিলে প্রতিষ্ঠা করেন স্টুডেন্টস এগ্রিকালচার ফাউন্ডেশন (সাফ)। ফান্ডের অভাবে শুরুতে হিমশিম খেতে হলেও থেমে থাকেনি গ্রামীণ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন। ২০১৭ সালে ড্রিমানটিয়ার্স নামক বেসরকারি গ্রামীণ উন্নয়ন বিষয়ক গবেষণা ভিত্তিক সংস্থা গঠন করেন এবং বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালনা করেন। শত বাধা অতিক্রম করে কিছুদিনের মধ্যেই ভালো কাজ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেন।

স্কুলে বিএনসিসি করা তালেব ২০১৯ সালে কৃত্বিতের সঙ্গে অর্জন করেন CSM পদবী।

এই বয়সে এত কাজ, আবার চিন্তা থাকত ফান্ডিং নিয়ে। তাই ধীরে ধীরে নিজেরা সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ গঠন করার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন যেন  গ্রামীণ মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টির পাশাপাশি কিছু মানুষের দারিদ্র্য বিমোচন হয়।

এই বয়সের ছেলেমেয়েরা যখন মেতে থাকে স্মার্টফোন নিয়ে, তখন তালেব দায়িত্ব নিয়েছেন যথাসম্ভব গ্রামীণ মানুষদের স্বাবলম্বী করে তোলার। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে নূরি— একটি সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ, কাপড়ের ব্র্যান্ড গঠন করেন। তবে করোনা মহামারির কারণে এই যাত্রায় বাধা আসে। তবে থেমে থাকেনি তালেবের পথচলা। আড়োরা এগ্রি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামক কোম্পানি গঠন করেন। বর্তমানে আড়োরা এগ্রি ইন্ডাস্ট্রিজের আড়োরা চিজ ফ্যাক্টরি ও আড়োরা জুস প্ল্যান্ট রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী হিসেবে কাজ করছেন তালেব। অনেক গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এই প্রতিষ্ঠান ভূমিকা রাখবে—এই বিশ্বাস নিয়ে প্রতিষ্ঠানের যাত্রা সফলতার লক্ষ্যে ছুটে চলছে। বর্তমানে বেশকিছু পত্রপত্রিকায় লেখালেখির পাশাপাশি যেসব তরুণ এখনো ভয়, সমস্যা কিংবা হতাশায় নতুন কিছু করার উদ্যোগ নিতে হিমশিম খাচ্ছেন তাদের জন্যে একটি বইও লিখছেন এই স্বপ্নবাজ তরুণ উদ্যোক্তা।