ক্যারিয়ারে খুব অল্প সময়ে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। গত ঈদে তার রেকর্ডসংখ্যক নাটক প্রচারিত হয়েছে। নিজের কাজ ও ব্যক্তিগত নানা বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন তানভীর তারেক-এর ‘রাতাড্ডা’ অনুষ্ঠানে। লিখেছেন এ এম রুবেল
শোবিজে যাত্রা শুরুর গল্প শুনতে চাই—
অভিনয়ে আসার পরিকল্পনা কখনোই ছিল না। তবে ক্যামব্রিয়ানে পড়ার সময় ছোট একটি বিজ্ঞাপন করেছিলাম। এই বিজ্ঞাপন যখন করি তখন যারা নির্মাণ করেন তারা আমাকে আরো বিজ্ঞাপন করার কথা বলেন। এরপর ২০১৮ থেকে বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপন করি। এরপর অনেকেই সাপোর্ট-প্রশংসা করা শুরু করলো, তখন ভাবলাম কাজের পরিধি বাড়ানোই যায়। এভাবেই নাটকে অভিনয় শুরু।
জীবনের প্রথম নাটকে আফরান নিশোকে পেয়েছিলেন। তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
চ্যানেল আইয়ের নাটকে প্রথম কাজ করি নিশো ভাইয়ের সঙ্গে। উনি খুবই সহযোগিতা পরায়ণ একজন মানুষ। তার কাছে থেকে অনেককিছু শিখেছি। শুরুতে তিনি বিরক্ত হয়েছেন। তবু চেষ্টা করেছি। কারণ উনি তো অনেক বড়মাপের অভিনেতা। ওনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করা আমার জন্য অনেক কঠিন ছিল।
স্ক্রিপ্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন দিকটাকে প্রাধান্য দেন?
আমি আসলে শুরুতে কাজ কম করতাম। তারপরও কোনো কাজ করার আগে গল্প ও আমার চরিত্র দেখি। কারণ দেখা গেল এমন কোনো চরিত্রে বা গল্পে কাজ করছি সেটা আমার সঙ্গে যায় না বা পারবো না। এরপর দেখি পরিচালক কে। কারণ একজন ভালো পরিচালকই একটি ভালো সৃষ্টি উপহার দিতে পারেন।
নতুনদের নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়? এ বিষয়ে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
মিডিয়া আসলে একটি কাজের জায়গা। এখানে প্রত্যেকেই বিনিয়োগ করেন। এখানে বাজে চিন্তা খুব কমই দেখা যায়। বলতে পারেন, এটা প্রফেশনাল জায়গা। তবে সব জায়গাতেই ভালো-মন্দ থাকে। বিষয়টি কে, কীভাবে নিচ্ছে সেটার ওপর নির্ভর করে। এক্ষেত্রে আমার অভিজ্ঞতা পুরোটাই পজিটিভ।
নাটকে অশ্লীল সংলাপ দৃশ্য হরহামেশাই এখন দেখা যাচ্ছে। শুধু নতুন নয়, সিরিয়র অনেক পরিচালক-শিল্পীও এ পথে হাঁটছেন। এ নিয়ে কী বলবেন?
যদিও আমি নতুন, তবু আমি এই বিষয়টি সবসময়ই এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। আমার কাজ দেখলে সেটা সবাই বুঝতে পারবেন।
নাটকে কাজ করা অনেকেই সিরিয়ালে অনিহা দেখায়। এর কারণ কী বলে মনে করেন?
অন্যের কথা বলতে পারি না। তবে আমার কথা বলবো আমি পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করি। সেক্ষেত্রে সিরিয়ালে অনেক সময় দেওয়া সম্ভব না। কিন্তু নাটকেব কম সময় দিতে হয় যেটা আমি ম্যানেজ করে চলতে পারি।
বর্তমানে ভাইরাল শব্দটি অনেক প্রভাব ফেলেছে। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
অভিনয় একটা আর্ট। এখানে ভাইরাল কেন আসবে! এমন একটি কাজ করলাম যেটা পরবর্তী প্রজন্ম দেখতে যদি লজ্জা পেল, তাহলে সেটা কেন করবো। শুধু ভাইরাল হওয়ার জন্য মানহীন কাজ কেন করবো! তবে আমি সবার কাজকেই শ্রদ্ধা করি। তাছাড়া সব কাজেরই দর্শক আছে। তবে আমার মনে হয় যার যার কাজের জায়গায় একটু সচেতন থাকা জরুরি।
নাটকে জনপ্রিয় হলেই চলচ্চিত্রে অভিনয়ে আসার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। আপনাকে সেভাবে দেখা যায়নি কেন?
প্রথম সিনেমা একটু ভয়ে ভয়ে করেছিলাম। কারণ চলচ্চিত্র অনেক বড় একটি পরিসর। কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছে। এরপর অনেক ছবির প্রস্তাব পেয়েছি। তবে নিজেকে আরো একটু তৈরি করে বড়পর্দায় কাজ করতে চাই। আর এমন ছবি করতে চাই যে ছবি সকলকে নিয়ে দেখা যাবে। তবে নাচ-গান নির্ভর কাজ করতে চাই না। এমন ছবি করবো যেখানে ভালো গল্পের পাশাপাশি নিজেকে মেল ধরার সুযোগ থাকবে।