নিকলী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার
দিলীপ কুমার সাহা, নিকলী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
জনবল সংকটে নিকলী উপজেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। নিকলী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১০-১১ অর্থবছরে আবহাওয়া অধিদপ্তর দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারিভাবে দুই একর জমির ওপর নিকলী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার নির্মাণের কাজ শুরু করে। এর মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের ৩০ জুন নিকলীর পর্যবেক্ষণাগারটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। একই দিন ঠিকাদারের কাছ থেকে প্রকল্প পরিচালক শামীম হাসান ভূইয়া আবহাওয়া অফিসটি বুঝে নেন। এরপর ২৯ মাস পেরিয়ে গেলেও জনবল সংকটের কারণে প্রায় ৩ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি স্থাপন করেও চালু করা যায়নি। দীর্ঘ দিন অপেক্ষার পর ২০১৭ সালের ১৭ মে চালু করলেও জনবল সংকটের কারণে পুরোপুরি চালু হয়নি এটি।
জানা গেছে, নিকলী আবহাওয়া অফিস পরিচালনার জন্য পদ রয়েছে আটটি। কিন্তু এখানে সিনিয়র অবজারভার পদে রয়েছেন এক জন, টেলি প্রিন্টার সুপার পদে এক জন ও নিরাপত্তা কর্মী পদে রয়েছেন এক জন। বাকি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদ এখনো শূন্য রয়েছে।
সোমবার সকালে সরেজমিনে নিকলী আবহাওয়া অফিসে গিয়ে দেখা যায়, নিকলী উপজেলা সদরের পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বেড়িবাঁধ। বেড়িবাঁধের পাড়েই নিকলী উপজেলা অফিস। উপজেলা অফিসের পাশেই দুই একর জায়গা জুড়ে প্রথম শ্রেণির নিকলী আবহাওয়া অফিস। নিকলী আবহাওয়া অফিসের ভিতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে দুই তলা বিশিষ্ট একটি ভবন। এ ভবনের ভেতরে আবহাওয়া অফিসের প্রশাসনিক কার্যক্রম হওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমানে কোনো ধরনের কার্যক্রম নেই। এ ভবনের ছাদে স্থাপন করা হয়েছে তিনটি যন্ত্র (বাতাসের গতি পরিমাপক যন্ত্র, বাতাসের দিক নির্ণয় যন্ত্র এবং সান শাইন রেকর্ডার)।
প্রশাসনিক ভবনের পাশে খোলা মাঠে লোহার বেষ্টনী দিয়ে নির্মাণ করা এনক্লোজার এরিয়া (ভেতরে আবহাওয়া যন্ত্রপাতি)। এনক্লোজার এরিয়ার ভেতরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে তিনটি স্ট্রিভেনশন স্ক্রীন বক্স, তিনটি বৃষ্টি পরিমাপক যন্ত্র, সোলার রেডিওশন যন্ত্র, বড় আকারের কয়েকটি থার্মোমিটার এবং একটি অটোমেটিক ওয়েদার স্টেশন ও অবসিকেল রেংগজ। নিকলী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রিয়াজুল হক আয়াজ বলেন, ‘নিকলীতে আবহাওয়া অফিস থাকলেও জনবল সংকটের কারণে এটি পুরোপুরি চালু না হওয়ায় এলাকার জনগণ আবহাওয়া পূর্বাভাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি দ্রুত জনবল নিয়োগ দিয়ে অফিসটি চালুর দাবি জানাই।’ নিকলী উপজেলার আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হেলিম উদ্দিন বলেন, ‘ঠিকাদারের কাছ থেকে এ পর্যবেক্ষণাগারটি বুঝে নেওয়া হয়েছে। এর পর জনবল না থাকায় কয়েক কোটি টাকার যন্ত্রপাতি স্থাপন করেও অফিসটি পুরোপুরি চালু করা যাচ্ছে না। ২০১৭ সালের ১৭ মে চালু হলেও জনবল সংকটের কারণে পুরোপুরি চালু হয়নি। ২০১৭ সালের পর নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল, তবে এখন নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে নিকলীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারটি পুরোপুরি চালু করা যাবে বলে আশা করছি।’