ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ পরিদর্শনে গিয়ে ক্ষুব্ধ জনতার ধাওয়া খেয়েছেন খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনের সংসদ সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান বাবু। তাকে বহন করা ট্রলারটির দিকে একের পর এক কাদামাটি ছুড়ে মারে সাধারণ মানুষ। এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কয়রা উপজেলার দশহালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও আক্তারুজ্জামান বাবু ঘটনাকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিবছরই এখানকার মানুষ ভাঙনে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে আমার বিরুদ্ধে কোনো কাদা ছোড়ার ঘটনা ঘটেনি। আমি সেখানে গেলে ৪-৫ হাজার কাদামাখা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ আমার কাছে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবি জানিয়েছে। পরে আমি তাদের সঙ্গে কাজ করেছি। আমার বিরুদ্ধে জামায়াতি চক্র অপপ্রচার চালাচ্ছে’।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ৫০-৬০ জন অনুসারী নিয়ে ট্রলারে করে বাঁধ পরিদর্শনে আসেন আক্তারুজ্জামান বাবু। তখন তাকে দেখে বাঁধ মেরামতরত এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হন। তারা এমপির ট্রলারের দিকে কাদা ছুড়ে তাকে ফিরে যেতে বলেন। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত এলাকাবাসী নদীতে নেমে আসেন।
এ সময় এমপি বাঁধ এলাকার একটু দূরে ট্রলার থেকে নামেন। তখন কিছু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। এরপর এমপি উপস্থিত এলাকাবাসীর উদ্দেশে মাইকে বক্তৃতা করেন। এরপর তিনি বাঁধ মেরামতে কাজে নামলে, অধিকাংশ স্বেচ্ছাশ্রমিক বাঁধ মেরামতের কাজ ফেলে চলে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী মহারাজপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর দেয়াড়া ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল হোসেন বলেন, এমপি সাহেব এলাকায় গেলে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করতে আসা জনগণ তার (এমপি) আসার প্রয়োজন নেই বলে কাদা ছুড়তে থাকেন। এক পর্যায়ে পুলিশ ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় নেতাকর্মীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে এমপি বাঁধের কাজ শুরু করতে গেলে অধিকাংশ জনগণ কাজ ছেড়ে চলে যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, এমপি তার আত্মীয়স্বজনদের মাধ্যমে কাজ করান। ফলে কাজ ভালো হয় না। একটু ঝড়-বৃষ্টি হলেই বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আর ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ জনগণ। সে কারণে এমপির ওপর উপজেলার অধিকাংশ মানুষের ক্ষোভ রয়েছে। এটি তার বহিঃপ্রকাশ।
ওসি মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘কিছু উচ্ছৃঙ্খল মানুষ একটু সমস্যা করেছিল। পরে এমপি সাহেব বক্তৃতা করলে তারা আবার শান্ত হয়ে যায়। এটি তেমন কোনো বড় ঘটনা না।’
সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসে দশালিয়া এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধটি ভেঙে যায়। ভাঙনের স্থান দিয়ে পানি ঢুকে প্রায় ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়। পানিবন্দি হয়ে পড়ে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। পাউবো বাঁধটি মেরামত করতে না পারায় স্বেচ্ছাশ্রমে উপজেলার প্রায় ৩ হাজার মানুষ বাঁধ মেরামতে নামে।