চট্টগ্রাম বন্দরে সরিষা বীজ ঘোষণা করে একটি চালানে মালয়েশিয়া থেকে আনা পপি বীজের একটি বড় চালান আটক করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশে পপি বীজ আমদানি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মাদক আফিম তৈরির জন্য দেশের দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে অবৈধভাবে পপি ফুলের চাষ করে থাকে দুর্বৃত্ত চক্র। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ কর্তৃপক্ষ চালানটি আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের কমিশনার মো. ফখরুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, বিষয়টি আমরা আরো গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছি। আমদানি নিষিদ্ধ এই পপি বীজ যারা আমদানি করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, পুরান ঢাকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আজমিন ট্রেড সেন্টার সরিষা বীজ ঘোষণায় মালয়েশিয়া থেকে ২ কনটেইনার পণ্য আমদানি করে। তাদের মনোনীত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হটলাইন কার্গো ইন্টারন্যাশনাল চালানটি খালাসের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজে গত ১৮ এপ্রিল নিয়ম অনুযায়ী বিল অব এন্ট্রি (নম্বর :সি ৬৫১৭৮০) দাখিল করে। একই সঙ্গে ঘোষিত পণ্য হিসাবে সরিষা বীজের শুল্ক বাবদ ১ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৭ টাকা পরিশোধ করে।
শুল্ক-করাদি পরিশোধ শেষে পণ্যের চালানটির খালাসের কার্যক্রম শুরু করে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট। কিন্তু গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রাপ্ত তথ্যে এই চালানের পণ্যের খালাস প্রক্রিয়া স্থগিত করে কাস্টম হাউজের অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) শাখা। পরে শতভাগ কায়িক পরীক্ষায় আমদানিকারকের ঘোষিত ৫৪ টন সরিষা বীজের স্থলে ১২ টন সরিষা বীজ এবং ৪২ টন আমদানি নিষিদ্ধ পপি বীজ পাওয়া যায়।
একই রকম লেখা ও একই রঙের বস্তায় কনটেইনারের সামনের অংশে সরিষা বীজ ও পেছনের দিকে পপি বীজ পাওয়া যায়। পণ্যের বর্ণনা সম্পর্কে অধিকতর নিশ্চিত হওয়ার লক্ষ্যে পণ্যের নমুনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষা শেষে ঐ নমুনাকে পপি বীজ হিসাবে চিহ্নিত করে প্রতিবেদন দেয় অধিদপ্তর। আফিমসহ বিভিন্ন রকমের মাদক তৈরিতে পপি বীজ ব্যবহার করা হয় বলে তা আমদানি নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ সরকার। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজার দর অনুযায়ী ৪২ টন পপি বীজের বিক্রয় মূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা হলেও সরিষা বীজের মূল্য বাবদ এলসির মাধ্যমে ২২ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি। কাস্টমস কর্মকর্তারা ধারণা করছেন পণ্যের বাকি মূল্য অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করে পরিশোধ করা হয়ে থাকতে পারে। যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ।
কাস্টমস হাউজের এআইআর শাখার সহকারী কমিশনার রেজাউল করিম সাংবাদিকদের জানান, মিথ্যা ঘোষণায় নিষিদ্ধ পণ্য আমদানি করায় সংশ্লিষ্টদের আসামি করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এটি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে সংঘটিত অপরাধের আওতায় পড়ে কি না, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের অ্যান্টি মানি লন্ডারিং ইউনিট।