প্রেমের টানে ঘর ছেড়ে জীবন দিলেন প্রেমিক অসিত বৈরাগী (২৫)। প্রেমিক-প্রেমিকা ঘর ছাড়ার পর প্রেমিকার বাবা সালিশ বসিয়ে তাদের ফিরিয়ে আনেন। সালিশে প্রেমিকের পরিবারকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা ও গ্রাম ছাড়ার সিদ্ধান্ত হয়। প্রেমিকের পরিবার ৩ লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে গ্রাম ছেড়ে চলে যায়। এ খবর জানতে পেরে প্রেমিকা প্রেমিককে নিয়ে ফের বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। প্রেমিকার বাবা থানায় মামলা করেন। মামলার পর প্রেমিকের মা ও খালুকে গ্রেফতার করে পুলিশ জেলহাজতে পাঠায়। প্রেমিক-প্রেমিকা এ খবর জানতে পেরে একসঙ্গে বিষপান করে প্রেমিকার বাড়িতে হাজির হন। বিষক্রিয়ায় অসিত বৈরাগী খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। আর প্রেমিকা গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দি ইউনিয়নের আড়কান্দি গ্রামে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাশিয়ানী থানার এসআই আলমগীর হোসেন অসিত বৈরাগীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন, ‘খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি সোমবার রাত ১টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন। মেয়েটির বাবার দায়েরকৃত মামলার তদন্ত চলছে। আমি সালিশের কথা শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অসিতের মৃত্যুর ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। আভিযোগ পেলে সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, অসিতের সঙ্গে প্রভাবশালী পরিবারের এক মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমিকার মা ইউপি সদস্য। গত ২৫ মে অসিত প্রেমিকাকে নিয়ে ঘর ছাড়েন। ২৬ মে ইউপি সদস্য তার স্বামী ও গ্রামের লোকজন নিয়ে সালিশ বসান। সালিশে মেয়েকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এছাড়া অসিতের পরিবারকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করে গ্রাম ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অসিতের পরিবার সালিশের পর মেয়েকে ফেরত দেয়। ঐ রাতেই মেয়েকে তারা মামাবাড়ি হাতিয়াড়া গ্রামে পাঠিয়ে দেন। অসিতের মা লতিকা বৈরাগী ২৭ মে গরুবাছুরসহ সহায়সম্বল বিক্রি করে মেয়ের বাবার হাতে ৩ লাখ টাকা দিয়ে বাড়ি ছেড়ে টুঙ্গিপাড়ায় চলে যান।
অসিতের মা লতিকা বৈরাগী বলেন, ‘আমাদের ওপর প্রভাবশালী ঐ পরিবার অমানবিক অত্যাচার করেছে। তারা আমাদের বাড়িতে আটকে রেখেছে। পরে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের জেলে পাঠিয়েছে। এটি সইতে না পেরে ছেলেমেয়ে একসঙ্গে বিষপান করেছে। আমার ছেলে মারা গেছে। আমি এ ঘটনায় মমলা করব।’
প্রেমিকার বাবা সালিশ বসিয়ে ৩ লাখ টাকা আদায়ের কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার মেয়ের সঙ্গে ঐ ছেলের কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না।’