আনন্দ বিনোদন প্রতিবেদক
অভিরামপুর গ্রামের কুব্বাত আলির বাদর নিয়ে কাজ-কারবার। তার বাদরের নাম মিস্টার দুলাল। কুব্বাত আলির প্রাণের দোস্ত এই দুলাল। শীতে কোট-প্যান্ট, গরমে ল্যেংটি— দুলালের পোশাক! দুলাল আবার মানুষের ভবিষ্যত্ বলে দিতে পারে। চোর ধরে দিতে পারে। হারিয়ে যাওয়া সোনার হার খুঁজে এনে দিতে পারে। তারপরও গ্রামের কিছু মানুষ কুব্বাতের বাদরের পিছে লাগে। দুলালকে নিয়ে কুব্বাত একের পর এক ঝামেলায় পড়ে। বাদর নিয়ে ঘুরে বলে কুব্বাতের বিয়ে পর্যন্ত হয় না। প্রেমিকার এক কথা— হয় বাদর ছাড়ো, না হয় আমাকে ছাড়ো! কুব্বাত ছাড়তে পারে না কাউকেই। বারো মাস অশান্তির মাঝে থাকা কুব্বাত তাই বিলি করে ১০ টাকার শান্তি মলম! কুব্বাতের এসিস্টেন্ট ব্যাটারি। সাইজে ছোট বলেই তার এই নাম। বাদরকে কোট-প্যান্ট পরানো, মাথায় নিয়ে ঘোরা তার কাজ। ভবিষ্যতে সেও একটা বাদরের মালিক হবে—এই স্বপ্ন দেখতে দেখতেই ব্যাটারির দিন যায়! কুব্বাতের ছোট ভাই টিংকু। সে লেইসফিতা, শাড়ি, চুড়ি বিক্রি করে। টিংকু শাড়ি চুড়ি নিয়ে বাড়ি বাড়ি ফেরি করে। লিপস্টিক পরা ভাবিদের মুচকি হাসিতে তার মনের ভিতর উথাল পাতাল করে। এই নিয়ে নিজের বউয়ের সঙ্গে রুটিনমাফিক ঝগড়া হয় টিংকুর। ঘরের শান্তির জন্য টিংকুও ছুটে যায় বড় ভাইয়ের কাছে। পেতে চায় শান্তি মলম! গ্রামের সবার আড্ডা বাবুলের চায়ের স্টলে। ট্রাম্প থেকে পুতিন, মঙ্গল গ্রহ থেকে সাব মেরিন— সবকিছুর খবর বাবুল জানে। কথা বলার মানুষ না পেলে একা একাই কথা বলে সে। বাবুল নিজেকে জ্ঞানের সাগর ভাবে। কুব্বাতের ১০ টাকার শান্তি মলম এখানেও বিক্রি হয়!—এমনি গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে প্রতিদিনের ধারাবাহিক ‘শান্তি মলম ১০ টাকা’। হিমু আকরামের রচনা ও পরিচালনায় এই ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন সালাহউদ্দিন লাভলু, ডাক্তার এজাজ, সিদ্দিকুর রহমান, আরফান আহমেদ, প্রাণ রায়, মুকিত জাকারিয়া, ফারুক আহমেদ, আমিন আজাদ, উর্মিলা শ্রাবন্তি, তানজিকা আমিন, মুনিরা মিঠু প্রমুখ। নির্মাতা হিমু আকরাম বলেন, ‘অশান্তিতে থাকা কিছু মানুষকে নিয়েই এই গল্প। যাদের অশান্তির লাইন থেকে শান্তির লাইনে আনতে চেয়েছি। গ্রামের বিচিত্র পেশার মানুষদের বেঁধেছি একই সুতোয়। আরটিভিতে ২৬ মে থেকে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিকটি প্রতিদিন রাত ৯টা ২০ মিনিটে প্রচার হয়।