প্লিজ আপনারা প্রিমিয়ার হকি লিগটা আয়োজন করবেন

মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত

স্পোর্টস রিপোর্টার

এমন সুযোগ কোথায় পাবে। হকির সভাপতির উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হকি লিগের জন্য ১ কোটি টাকা দিয়েছেন, তার পরও ফেডারেশনের কিছু কর্মকর্তার কারণে লিগটা মাঠে গড়াচ্ছে না। কয়েক শত খেলোয়াড়ের রুটি-রুজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ২০১৮ জুনের পর আর প্রিমিয়ার হকি লিগ মাঠে গড়ায়নি। কবে হবে তারও কোনো নিশ্চয়তায় নেই। গতকাল দুপুরে হকি ফেডারেশনের সভাপতি বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাতের বিদায়ি সভা হয়ে গেছে বিমান বাহিনীর ফ্যালকন হলে। ফেডারেশনের এই সভায় যোগ দিয়ে নতুন সভাপতি বিমান বাহিনীর এয়ার ভাইস মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নানকে অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে গেছেন। 

হকি ফেডারেশনের বর্তমান কমিটিতে সব ক্লাবের কর্মকর্তা রয়েছেন। তার পরও  লিগ হয়নি। খেলাধুলা দুনিয়ায় সব খেলাই হচ্ছে। বাংলাদেশেও প্রায় সব ধরনের খেলা হচ্ছে। হকি মাঠেও খেলা হয়েছে এবং হচ্ছে। বন্ধ শুধু প্রিমিয়ার হকি লিগ। নানা অজুহাত ফেডারেশন কর্মকর্তাদের কণ্ঠে। ক্লাবগুলো বড় বাজেটে গড়া ফুটবল এবং ক্রিকেট লিগ খেলছে। অথচ তুলনায় কম বাজেটের হকিতে দল গঠন করতে যত অনীহা।

ফেডারেশন নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল হক সাঈদ দেশ ছাড়ার পর বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব পরিচালনা করছেন। সভাপতি মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাতের পূর্ণ সহযোগিতায় হকির কঠিন কঠিন কাজগুলো এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু লিগটা হয়নি শুধু ক্লাব কর্তাদের অবহেলায়। উদাসীনতায়। সভাপতি টাকা এনে দিয়েছে তার পরও লিগ আয়োজন নিয়ে তোড়জোড় কম। কারো মতে এই সাধারণ সম্পাদক পদে না বসা পর্যন্ত লিগ আয়োজনে আগ্রহ কম।

বিদায়ি সভা বলে খুব বেশি আলোচনা হয়নি।

সভার নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বিদায়ি সভাপতি নাকি বলে গেছেন প্লিজ আপনারা প্রিমিয়ার লিগটা আয়োজন করবেন।’

গতকাল হকির সভা শেষে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি সভাপতি মাসিহুজ্জামান। এই মানুষটি সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সব সময় হাসিমুখে কথা বলতেন। সংকট সমাধানের প্রাণান্তর চেষ্টা করতেন তিনি। সংবাদ মাধ্যমের কাছে তিনি ছিলেন পছন্দের একজন মানুষ। হয়তো তার মনের ভেতরে কষ্ট থাকবে। লিগটা দেখে যেতে পারলেন না।

গতকাল যখন সভা শেষে মাসিহুজ্জামান বেরিয়ে যাচ্ছিলেন তখন ছুটোছুটি শুরু হয়ে গিয়েছিল তার সঙ্গে কথা বলার অপেক্ষায় থাকা সাংবাদিকদের।

সভাপতির অনুপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ ইউসুফ জানিয়েছেন, সভাপতি সাহেব ব্যস্ত আছেন, তিনি অবসরে যাচ্ছেন। তাই সভায় বেশি সময় দিতে পারেননি। নতুন সভাপতি এসেছেন, তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। আর প্রিমিয়ার লিগ হবেই। জুলাইয়ের শেষে দলবদল, ঈদের পর লিগ।’ আব্দুর রশিদ সিকদার বললেন, ‘কোভিডের কারণে লিগ হয়নি। ক্লাবগুলো লিগের ব্যাপারে আন্তরিক।’