বিশেষ প্রতিনিধি
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা মিউকরমাইকোসিস নিয়ে অহেতুক ভয় পাবেন না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এ রোগ প্রতিরোধযোগ্য। ব্ল্যাক ফাঙ্গাস রোগ নির্ণয় ও চিকিত্সা সম্পর্কে তিনি বলেন, হাসপাতালে ভর্তি করে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের তত্ত্বাবধানে থেকে রোগ নির্ণয় ও চিকিত্সা আবশ্যক। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. মিল্টন হলে ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস-এর রোগ নির্ণয় ও চিকিত্সাবিষয়ক গাইডলাইনের প্রকাশনা’ উপলক্ষ্যে বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ এ কথা বলেন।
এর আগে একই স্থানে ইনস্টিটিউশনাল রিভিউ বোর্ড-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স অন রিসার্চ অ্যান্ড ইথিকস’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণ করেন উপাচার্য। সভাপতিত্ব করেন আইআরবি-এর সভাপতি ও অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. এ কে এম মোশাররফ হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মিউকরমাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বিশেষ ধরনের অনুবীক্ষণিক ছত্রাকের সংক্রমণজনিত বিভিন্ন রোগকে বোঝায়। এর মধ্যে রাইজোপাস প্রজাতি সবচাইতে বেশি দায়ী। তবে অন্য জীবাণু যেমন মিউকর, কানিংহামেলা, অ্যাফোফিজোমাইসেস, লিচথিমিয়া, সাকসেনিয়া, রাইজোমুকর এবং অন্যান্য প্রজাতিও এই রোগের কারণ। এই ছত্রাক সর্বব্যাপী—মাটি, পানি ও বাতাসে ছড়িয়ে থাকলেও সংক্রমণ ক্ষমতা এতই কম যে ১ লাখ মানুষের মধ্যে মাত্র ১-২ জনের বেড়ে যেতে পারে—যেটা ১ লাখে ২০-৩০ জন হতে পারে। এই রোগ ছোঁয়াচে নয়। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, বিশেষত কিটো অ্যাসিডোসিস আক্রান্ত রোগীরা, ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী, অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় ব্রড-স্পেকট্রাম অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার, অন্তঃসত্ত্বা মহিলা, অত্যধিক মাত্রায় বা অপ্রয়োজনীয় স্টেরয়েড গ্রহণ করা, কিডনি বা অন্য অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা রোগী এবং চরম অপুষ্টিজনিত রোগী, চামড়ার গভীর ক্ষত ও পোড়া ঘায়েও এই রোগ হতে দেখা যায়, কোভিড ভাইরাসে দীর্ঘমেয়াদে আক্রান্ত বা চিকিত্সাধীন রোগী এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে।