রামেকে আরো সাত জনের মৃত্যু
ইত্তেফাক ডেস্ক
সীমান্ত এলাকায় করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। করোনা ঝুঁকিতে রয়েছে বিভিন্ন এলাকা। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কায় রয়েছে ঠাকুরগাঁও জেলা। আমাদের স্টাফ রিপোর্টার, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতার পাঠানো খবর
রাজশাহী :রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনা সংক্রমণ ও উপসর্গ নিয়ে চিকিত্সাধীন আরো সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তাদের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে পাঁচ জনের করোনা পজিটিভ, বাকিদের করোনার উপসর্গ ছিল। রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, মৃতদের মধ্যে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিন জন করে ছয় জন এবং নাটোরের একজন। উপপরিচালক বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন ভর্তি হয়েছেন ২১ জন।
রংপুর :রংপুর বিভাগে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় ৩৭৮ জনের নমুনা টেস্ট করে নতুন করে ৭৮ জন শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে দিনাজপুরে দুই জন এবং লালমনিরহাটে এক জনের মৃত্যু হয়েছে। রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. আহাদ আলী এ তথ্য জানান। এদিকে করোনা সন্দেহে বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৩০৮ জনসহ হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন ১ লাখ ৮ হাজার ৭০৪ জন। একই সময়ে ১৪৯ জনসহ মোট ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৭ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) :আরটিপিসিআর ল্যাবে ২৭১টি নমুনা পরীক্ষায় ১৭২ জনের এবং র্যাপিড এন্টিজেন্ট টেস্টে ৮৩ নমুনার বিপরীতে ২১ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে জেলা হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ১৯ জন রোগী চিকিত্সা নিচ্ছে। এদিকে জেলা হাসপাতালে বুধবার দুপুরে একটি বেসরকারি কোম্পানি অক্সিজেন ল্যাব উদ্বোধন করেছে।
এদিকে জেলা সদর হাসপাতালে তরল অক্সিজেন গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। দুপুরে ২৫০ শষ্যার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল কম্পাউন্ডে ৫ হাজার ৬৪৪ লিটার তরল অক্সিজেনবাহী ট্যাংকটি প্রবেশ করে। এরপর তা হাসপাতালের সেন্ট্রাল সিলিন্ডারে স্থানান্তর করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মমিনুল হক জানান, এ সময়ে করোনা ইউনিটের জন্য যে তরল অক্সিজেন গ্যাস পাওয়া গেছে তাতে ৫০ জন রোগীকে এখন ধারাবাহিকভাবে অক্সিজেন সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের অক্সিজেন সার্ভিসটি কেন্দ্র থেকে মনিটর করা হবে। অক্সিজেন শেষ হলেই আবারও চলে আসবে।
ঠাকুরগাঁও :ভারতের সীমান্ত ঘেঁষা হওয়ায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে আছে ঠাকুরগাঁও জেলা। করোনার ভারতীয় ধরন ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কায় এ জেলার মানুষ। ঠাকুরগাঁওয়ের চার উপজেলা ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা। ঠাকুরগাঁও ৫০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাকসুদ বলেন, ‘যেসব জায়গা খুব ঝুঁকিপূর্ণ, সেখানে আমাদের নজরদারি রয়েছে। খুব ভালো মতোই পাহারা দেওয়া হচ্ছে। যাতে করে মানুষ জন যাতায়াত করতে না পারে।’ ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজার রহমান বলেন, ‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট আমাদের জেলায় এখনো নাই। কয়েক জন মাত্র ভারত থেকে এসেছে। তাদেরকে সীমান্তে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল। তারা সবাই নেগেটিভ।’