লামায় বাসা থেকে প্রবাসীর ১০ মাসের শিশুকন্যাসহ তিনজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা বাংলাদেশ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩ জুন) লামার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমানের আদালতে এই নির্দেশ দেয়া হয়। এরআগে লামা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর হোসেন এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন। লামা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কর্তব্যরত পুলিশ পরিদর্শক বিশ্বজিৎ সিংহ এই খবর নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য, গত ২০ মে (শুক্রবার) দিনগত রাত তিনটার দিকে লামা পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের চাম্পাতলী গ্রামের তালাবদ্ধ বাসা থেকে প্রবাসী নুর মোহাম্মদের দুই কন্যা নুর-এ জান্নাত রীদা প্রকাশ নুরী (১০) ও সুমাইয়া ইয়াছমিন প্রকাশ রাফি (১৬) এবং তার স্ত্রী মাজেদা বেগম (৩৭) এর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতদের মধ্যে প্রবাসীর কন্যা রাফি ও তার মা মাজেদা বেগম এর শরীরে ধর্ষণের আলামত রয়েছে। একইভাবে তাদের তিন জনের শরীর, কপাল, পিঠ ও বুকে রক্তাক্ত জখমের চিত্র।
এই ঘটনায় মৃত মাজেদা বেগমের মা লাল মতি বেগম বাদি হয়ে ২১ মে (শনিবার) লামা থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ এই মামলায় আব্দুল খালেক, মাহ আলম ও উত্তম বড়ুয়া নামক তিনজনকে গ্রেফতার করে পৃথকভাবে রিমান্ডে নিয়েছে। তাছাড়া প্রবাসী নুর মোহাম্মদসহ তার পরিবার ও স্বজন এবং প্রতিবেশীসহ মোট ১৩ জনকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদে হেফাজতে নেয়। তবে এসব করেও খুনের কোনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশের তদন্তকারী এই কর্মকর্তা।
লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, আব্দুল খালেক, শাহ আলম ও উত্তম বড়ুয়া এই তিনজনের তিন দিন করে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর হয়েছে। এ মামলায় এখনও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।
ইত্তেফাক/এমএএম