সীমান্তের জেলাগুলোতে রোগী বাড়ছে

সীমান্তের জেলাগুলোতে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। দিনাজপুরে গতকাল বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ শনাক্ত ধরা পড়ে। করোনা ঝুঁকিতে রয়েছে যশোর। নতুন করে সাতক্ষীরা ও মহেশপুর সীমান্তের বাওলী গ্রামে লকডাউন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় চলছে বিধিনিষেধ। আমাদের অফিস, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতার পাঠানো খবর :

দিনাজপুর :স্বাস্থ্যবিধি চরমভাবে উপেক্ষিত হওয়ায় দিনাজপুরে করোনা সংক্রমণের হার এযাবত্কালের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দিনাজপুরে করোনা শনাক্তের হার ছিল প্রায় ২৬ শতাংশ। গত বুধবার দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জেলায় নতুন ৩০ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে দিনাজপুর সদর উপজেলায় ২২ জন, বিরামপুর, বীরগঞ্জ ও পার্বতীপুর উপজেলায় দুই জন করে এবং বিরল ও চিরিরবন্দর উপজেলায় এক জন করে রয়েছেন। দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার ডা. শাহ মো. এজাজ-উল হক জানান, ১১৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩০ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ২৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ, যা এযাবত্কালের মধ্যে সর্বোচ্চ।

যশোর :সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন বলেন, গত তিন দিনে জেলায় করোনা পরিস্থিতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আমরা পুরো বিষয়ের ওপর নজর রাখছি। বৃহস্পতিবার কালেক্টরেট সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি। জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান বলেন, এ পর্যন্ত ২৯টি লাশ গ্রহণ করা হয়, যা অ্যাম্বুলেন্সে করে নিজেদের বাড়িতে পাঠানো হয়। এর মধ্যেও ভারত থেকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের গ্রহণ করতে হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৩ জন সার্টিফাইড কোভিড রোগী গ্রহণ করে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিত্সা প্রদান করা হয়।

ঝিনাইদহ :করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় মহেশপুর উপজেলা সীমান্তবর্তী বাওলী গ্রামে লকডাউন দিয়েছে প্রশাসন। এছাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী ছয়টি ইউনিয়নে চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইউনিয়নগুলো হচ্ছে স্বরূপপুর, নেপা, কাজীরবেড়, শ্যামকুড়, বাঁবাড়িয়া ও যাদবপুর। বৃহস্পতিবার জেলা করোনা প্রতিরোধে কমিটির বিশেষ সভায় এ সিদ্ধন্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বাওলী গ্রামে ছয় জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান জানান, সীমান্ত এলাকায় করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

সাতক্ষীরা :সাতক্ষীরা জেলায় করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এক সপ্তাহ লকডাউন ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শনিবার সকাল ৬টা থেকে জেলাব্যাপী সাত দিনের লকডাউন কার্যকর করা হবে। এদিকে সাতক্ষীরায় গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৫০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার প্রায় ৫৪ শতাংশ।

নোয়াখালী :জেলায় লাফিয়ে বাড়ছে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ। জেলায় গত ৪৮ ঘণ্টায়  ২১৮ জন আক্রান্ত এবং সদর উপজেলায় এক জনের মৃত্যু হয়েছে।  বৃহস্পতিবার জেলায় ২৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। জেলার  সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার জানান, সংক্রমণ প্রতিরোধে সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত  জেলা প্রশাসন,  স্বাস্থ্য বিভাগ  ও নোয়াখালী পৌরসভা  যৌথ তদারকিতে জেলা শহর মাইজদী ও  পৌর এলাকার ৪৫টি  বাসা  লকডাউন করা হয়েছে। একই সঙ্গে গত দুই দিন থেকে গ্রামেও  আক্রান্তদের বাড়িও লকডাউন করার কাজ চলছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) :চাঁপাইনবাবগঞ্জে নতুন করে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৯৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। ২১৯ জনের নমুনায় ৯৮ জনের করোনা পজিটিভ আসে। শনাক্তের শতকরা হার ৪২.৭৯। বুধবার শনাক্তের হার ছিল ৫৩ দশমিক ৯৯ ভাগ। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন জাহিদ নজরুল চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শনাক্তের শতকরা হার কিছুটা নিম্নমুখী। এটা ধরে রাখতে হলে অবশ্যই আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এখন পর্যন্ত করোনায় এ জেলায় মারা গেছে ৪০ জন।

নাটোর :সিভিল ডা. কাজী মিজানুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ২৯ ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা করা হয়। করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে মোট ১৪ জন আক্রান্ত হয়েছে। অর্থাত্ জেলায় আক্রান্তের হার ৪৮ শতাংশ। বৃহস্পতিবার সকালে শহরের নীচাবাজার এলাকায় করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন শমশের চৌধুরীর ছেলে রান্টু চৌধুরী (৭৫)। এর আগের দিন বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান নাটোর শহরের কানাইখালী এলাকার রায়হান আলীর স্ত্রী মৌসুমী ।

নওগাঁ :করোনার সংক্রমণ উদ্বেগজনক হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে নওগাঁ পৌরসভা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় ঘোষিত লকডাউনের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার ঢিলেঢালাভাবে শেষ হয়েছে। লকডাউনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দোকানপাট ও হোটেল বন্ধ ছিল। তবে সরকারি-বেসরকারি অফিসে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত জনবল নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।  নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, প্রথম দিনে প্রশাসন কঠোর থাকলেও বিভিন্ন অজুহাতে অনেক লোকজন ঘরের বাহির হয়েছে। তবে প্রশাসনিক তত্পরতায় শুক্রবার থেকে রাস্তাঘাটে লোকজন থাকবে না বলে দাবি করেন।

চাটমোহর (পাবনা) :পাশের জেলা নাটোরে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কমানোর জন্য পাবনার চাটমোহর উপজেলার সীমান্তে কঠোর বিধিনিষেধ জারিসহ চেকপোস্ট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ বলবত্ থাকবে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজন ইউএনও মো. সৈকত ইসলামের সভাপতিত্বে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে এক জরুরি সভায়  এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।