হল না থাকার সুবিধা নিতে চায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চাইলে একাডেমিক কাউন্সিলের সঙ্গে পরামর্শ করে সশরীরে ও অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষা নিতে পারবে। তবে যাঁদের সক্ষমতা রয়েছে, তাঁরা চাইলে আপাতত অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষা দিতে পারবেন। আপাতত বন্ধ রাখা হবে সব আবাসিক হল। হলে থাকা শিক্ষার্থীদের শতভাগ টিকা প্রদান নিশ্চিত করে হল খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক হল না থাকার সুবিধা নিয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা নিতে চায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শিক্ষার্থীরাও ক্লাস-পরীক্ষা সচল করার দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষে সেশনজট তৈরি হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির মুখোমুখি হবেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরা যেমন চাকরিতে প্রবেশের অপেক্ষায় আছেন, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরাও ক্যাম্পাসে ফিরতে উন্মুখ হয়ে আছেন। পড়াশোনার দীর্ঘ বিরতিতে মানসিক অবসাদে ভুগছেন শিক্ষার্থীরা। দেশের একমাত্র অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এই শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা ভিন্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী মেস ও বাসা ভাড়া নিয়ে ক্যাম্পাসের আশপাশেই অবস্থান করছেন। হল না থাকায় একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদক্রমে ক্লাস-্পরীক্ষা নিতে পারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্কালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য ড. কামালউদ্দিন আহমদও আবাসিক হল না থাকার সুবিধা নিয়ে জুনেই ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়ার কথা জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘আমরা পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে আছি এবং পরীক্ষা নিতে প্রস্তুত। একাডেমিক কাউন্সিলের সঙ্গে উপাচার্য মিটিং করে একটা সিদ্ধান্ত নেবেন। মিটিংয়ে যেটা সিদ্ধান্ত হবে, সেটা আমরা বাস্তবায়ন করব।

বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, ‘পরীক্ষা অবশ্যই নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও ডিনদের নিয়ে আগামী রবিবার বা সোমবার আমরা মিটিংয়ে বসব উপাচার্যের সঙ্গে। আমাদের পরিকল্পনা আছে ১ জুলাই থেকে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার এবং এর আগে ক্লাস শুরু করার।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. নুরে আলম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘নতুন উপাচার্য যোগদান করেছেন। তার সঙ্গে কথা বলে দ্রুত পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। ’

সেশনজট নিরসন ও পরীক্ষা প্রসঙ্গে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষে সেশনজট তৈরি হয়েছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষে যাঁরা আছেন, তাঁদের আগে পরীক্ষা নেওয়ার চিন্তা আছে। বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভাগের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে আলোচনা করে পরীক্ষা ও সেশনজট নিরসনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।