ইসরাইলে গঠিত হচ্ছে নতুন জোট সরকার

ইসরাইলে একটি নতুন সরকার গঠনের চুক্তিতে পৌঁছেছে বিরোধী আটটি দল। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর এক যুগের শাসনের অবসান হচ্ছে। বুধবার মধ্যপন্থি দল ইয়েশ আতিদ পার্টির নেতা ইয়াইর লাপিদ চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দেন। তবে এই জোট সরকারের সমালোচনা করেছেন নেতানিয়াহু। তিনি এই সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ আটকে দিতে পার্লামেন্টের ডানপন্থি সদস্যদের আহ্বান জানিয়েছেন। 

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী ডানপন্থি দল ইয়ামিনা পার্টির প্রধান নাফতালি বেনেত শুরুতে দুই বছর প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। এরপর তিনি ইয়াইর লাপিদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন। যদিও এই সরকারের শপথ গ্রহণের আগে পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে। ইয়াইর লাপিদ এক বিবৃতিতে জানান, তিনি প্রেসিডেন্ট রুভেন রিভলিনকে কোয়ালিশন চুক্তি সম্পর্কে অবহিত করেছেন। তিনি বলেন, আমি অঙ্গীকার করছি যে, এই সরকার সব ইসরাইলি নাগরিকের সেবায় কাজ করবে। যারা এর জন্য ভোট দিয়েছেন এবং যারা ভোট দেননি। এই সরকার তার বিরোধীদের সম্মান করবে এবং ইসরাইলের সমাজের সব অংশকে একত্রিত করতে সাধ্যমতো সবকিছু করবে।

খবরে বলা হয়েছে, এই প্রথম বারের মতো ইসরাইলি আরব পার্টিকে সরকারে যুক্ত করা হচ্ছে। ইসরাইলের গণমাধ্যমে একটি ছবি প্রকাশিত হয়েছে যাতে দেখা যাচ্ছে, ইয়াইর লাপিদ, নাফতালি বেনেত এবং ইসলামপন্থি রাম পার্টির নেতা মানসুর আব্বাস একটি চুক্তি স্বাক্ষর করছেন। এমন চুক্তিকে অনেকেই অসম্ভব মনে করেছিলেন। মানসুর আব্বাস সাংবাদিকদের বলেন যে, সিদ্ধান্তটি খুবই কঠিন ছিল। বেশ কিছু মতবিভেদ হয়েছে, কিন্তু একটা সমঝোতায় পৌঁছানো খুবই জরুরি ছিল।

প্রেসিডেন্ট রুভেন রিভলিনকে ইয়াইর লাপিদ জানিয়েছেন যে, নাফতালি বেনেত এবং তিনি নিজে এক সঙ্গে সরকার পরিচালনা করবেন। ২০২৩ সালের ২৭ আগস্ট তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেনেতের কাছ থেকে ক্ষমতা বুঝে নেবেন। রিভলিন যত শিগগিরই সম্ভব এক আস্থা ভোট আয়োজনের জন্য পার্লামেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সরকার গঠনে নেসেটে ৬১ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। তবে এই কোয়ালিশন যদি সমর্থন না পায়, তাহলে ইসরাইলে দুই বছরের মধ্য পঞ্চম বারের মতো নির্বাচন আয়োজনের দরকার হতে পারে।

যে দলগুলো মিলে এই কোয়ালিশন হয়েছে, তার মধ্যে ইসরাইলের সব ঘরানার রাজনৈতিক দল রয়েছে। রাজনৈতিক দিক দিয়ে এসব দলের মধ্যে খুব কম বিষয়ে মতের মিল রয়েছে। শুধু একটি বিষয় ছাড়া—আর তাহলো সেখানকার সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করা। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় বিচারাধীন রয়েছে। গত মার্চে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে তিনি চূড়ান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হন। এটা ছিল গত দুই বছরে চতুর্থ সাধারণ নির্বাচন, যার পর তিনি জোট গঠনের জন্য মিত্র পেতে ব্যর্থ হন।

গতকাল এই জোট সরকারের সমালোচনা করে এক টুইট বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, তারা বামপন্থি এবং বিপজ্জনক। এর আগে তিনি এই জোট সরকার গঠনের প্রস্তাবকে শতাব্দীর সবচেয়ে বড় প্রতারণা বলে মন্তব্য করেছিলেন।