২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘নিঃসন্দেহে একটি সাহসী পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে জাতীয় পার্টি-জেপি। দলের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি ও সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার এক যুক্ত বিবৃতিতে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় এই মন্তব্য করে বলেছেন, এই বাজেট বাস্তবায়নই হবে সরকারের জন্য আসল চ্যালেঞ্জ।
বিবৃতিতে জেপির নেতৃদ্বয় বলেন, অর্থমন্ত্রী সংসদে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের ৫০তম বাজেট উপস্থাপন করেছেন। বাজেটের আকার ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা এবং সামগ্রিক ঘাটতি ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। করোনার প্রাদুর্ভাবে যখন সারা দেশ তথা সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে মন্দাভাব বিরাজ করছে তখন সর্বকালের এই বিশাল বাজেট নিঃসন্দেহে একটি সাহসী পদক্ষেপ। আমরা মনে করি, বাংলাদেশে বাজেট প্রদানের চেয়ে যে সমস্যাটি সবসময় আমাদের দেশে বিরাজমান সেটি হলো বাস্তবায়ন।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও শেখ শহীদ বলেন, এ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা। এই বিশাল বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়নই সরকারের সম্মুখে বড় চ্যালেঞ্জ। বাজেটে বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ থেকে দেখা যায় যে, এটি একটি গণমুখী প্রগতিশীল বাজেট যেখানে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারিত করা হচ্ছে এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হয়েছে। বাজেটে প্রাক্কলিত প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ২ ভাগ রাখা হয়েছে। এই অর্থনৈতিক মন্দা অবস্থায় তা অর্জন করা কঠিন হবে বলে আমরা মনে করছি। বাজেটে মূল্যস্ফীতি প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। আমরা মনে করি, এই মূল্যস্ফীতি ৫-এর নিচে রাখতে পারলে জনগণ স্বস্তি পেত। বাজেটে বেসরকারি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর কর ধার্য বা বাড়ানো হয়েছে। আমরা মনে করি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের কর বৃদ্ধি যৌক্তিক নয়।
তারা বলেন, জেপি লক্ষ্য করছে যে—প্রস্তাবিত বাজেটে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে অংশগ্রহণের প্রস্তুতির প্রয়োজন ছিল, তবে তা বাজেটে নেই। বাজেটে প্রশাসনকে গণমুখী করা এবং জনগণের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করার প্রয়োজন ছিল। বাজেটে মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে দেশকে সম্পূর্ণভাবে নিরক্ষরতামুক্ত করা এবং একটি জ্ঞান ও বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গড়ে তোলার জন্য যে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা জাতি আশা করেছিল তা এই বাজেটে অনুপস্থিত। বাজেটে দুর্নীতি দূরীকরণ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তোলার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ উল্লেখ করা হয়নি। ব্যাংকিং সেক্টর ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার যে প্রত্যাশা জনগণের ছিল এক্ষেত্রেও বাজেটে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দেখা যায়নি। করোনা মোকাবিলায় বাজেটে যে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে তা প্রশংসনীয়। তবে জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে করমুক্ত আয়ের সীমা আরো বৃদ্ধি করা প্রয়োজন ছিল, যা ৩ লাখে অপরিবর্তিত রয়েছে। কর সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে। তা অর্জন করতে হলে এক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে হবে এবং কর ব্যবস্থার সংস্কার সাধন করতে হবে। অন্যথায় এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না।