গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। পৃথিবীজুড়ে প্রায় ৬৫০ প্রজাতির পুদিনা পাওয়া যায়, এদের অধিকাংশই বহুবর্ষজীবী এবং কিছু পুদিনা একবর্ষজীবী। দ্রুত বর্ধনশীল। উচ্চতা গড়ে ৬০ সেন্টিমিটার। এর ভূগর্ভস্থ রাইজোম ও শাখা-প্রশাখা রয়েছে। পাতা গন্ধযুক্ত ও গাঢ় সবুজ রঙের এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ধূসর সবুজ। পাতার কিনারা করাতের মতো খাঁজকাটা ও তাতে ছোট কাঁটা থাকে। লম্বায় প্রায় ৫ সেন্টিমিটার। খাড়া পুষ্পদণ্ডে হালকা বেগুনি রঙের ক্ষুদ্রাকৃতি ফুল গুচ্ছভাবে ধরে। ফুল শেষে ফল হয়। ফল আকারে ক্যাপসুলের মতো এবং এর ভেতর থাকে ক্ষুদ্র আকারের বীজ। পুদিনা টবেও চাষ করা যায়। কাটিং চারার মাধ্যমে এর বংশ বিস্তার করা হয়।
পুদিনার রয়েছে বহুরকম ভেষজগুণ। বদহজম, বমি, উদরাময়, মাথা ধরা নিয়ন্ত্রণ, কাশি, পেশি সংকোচন নিয়ন্ত্রণ, অ্যাজমা, ফুসফুস-শ্বাসনালী পরিষ্কারে, স্তন, লিভার ও ত্বকের ক্যানসার প্রতিরোধে বিশেষ কার্যকর। তাছাড়া চা, পানীয়, জেলি, সিরাপ, ক্যান্ডি ও আইসক্রিমের সঙ্গে ব্যবহার হয়। আমদের দেশে পুদিনার চাটনি, সালাদ ও ভর্তার বেশ কদর রয়েছে এবং এর মিন্ট অয়েল থেকে প্রাপ্ত মেন্থল বহু কসমেটিকস ও পারফিউম তৈরির প্রধান উপাদান।
লেখা ও ছবি : মোহাম্মদ নূর আলম গন্ধী