পরিবেশদূষণ ও সচেতনতা

যে কোনো প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য তার নিজস্ব পরিবেশ সুরক্ষিত থাকা জরুরি। গত শনিবার সিলেটে পর পর কয়েকদফা মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। আতঙ্কের বিষয়, শনিবারের ভূমিকম্পের উত্পত্তিস্থল ছিল সিলেটেই। কোথাও কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও কয়েকটি ভবন হেলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

আগামীকাল বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘বাস্তুতন্ত্রের পুনরুদ্ধার’। এ ব্যাপারে সচেতন মানুষদের এগিয়ে আসতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখতে হবে নিজ নিজ অবস্থান থেকে। দিবসটিকে ঘিরে আমাদের কার্যক্রম থাকে। প্রতিবছর শত শত গাছ লাগানো হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আর খোঁজখবর নেওয়া হয় না। ফলে প্রতি বছর একই জায়গায় আমরা গাছ লাগাতেই থাকি, বনায়ন আর হয় না। তাই গাছ শুধু লাগালেই হবে না, এর সুষ্ঠু পরিচর্যাও প্রয়োজন। দিবসটি উপলক্ষ্যে কোনো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান লক্ষ করা যায় না। আমাদের উচিত নিজেদের দায়িত্বে চারপাশ পরিষ্কার রাখা।

পলিথিন এবং প্লাস্টিকের এই যুগে পরিবেশ রক্ষা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। করোনা পরিস্থতি আমাদের বুঝিয়েছে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা কতটা জরুরি। প্রকৃতি আমাদের জন্য কত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রকৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু আমাদের পানি দূষিত, বাতাস দূষিত, চারপাশ দূষিত, রাস্তায় হাঁটা যায় না দুর্গন্ধের জন্য। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় পাওয়া মিথেন গ্যাস আমাদের পরিবেশ বিপর্যয়ের বার্তাই বহন করে। একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত স্যাটেলাইট থেকে তোলা ঢাকার আকাশে মিথেন গ্যাসের ছবি আমাদের শঙ্কিত করেছে। এ বছর বুলমবার্গ মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে যেসব দেশ রয়েছে তার একটি বাংলাদেশ। যেখানে প্রচুর মিথেন গ্যাস উত্পন্ন হচ্ছে। এই গ্যাসের উেসর মধ্যে রয়েছে ধানখেত, আবর্জনার ভাগাড়, কয়লার মজুদ, পাইপলাইনের ছিদ্র দিয়ে প্রাকৃতিক গ্যাস বের হয়ে আসা। জলবায়ুর পরিবর্তন ঠেকাতে মিথেন গ্যাসের নির্গমন কমানো খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে বলে জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন নদী পলিথিনমুক্ত রাখতে নদীর সংযোগে থাকা খালগুলোর মুখে নেট বসানোর পরামর্শ দেওয়া হলেও মানা হচ্ছে না। প্রাকৃতিক দুর্যোগ এড়ানো সম্ভব নয়। কিন্তু দুর্যোগ সৃষ্টির কারণ যাতে না হই সে বিষয়ে সকলেই একমত হবেন। সিলেট একসময় পাহাড়/টিলার খনি ছিল। ভূমিখেকোরা রাতের আধারে পাহাড় কেটে সমতলভূমি বানিয়ে নিয়েছে। যদিও পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা সরকার করে যাচ্ছে নিয়মিতভাবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের দিকে চেয়ে না থেকে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে এলাকাভিত্তিক কার্যক্রম চালানো যায়। প্রতিটি এলাকার পরিবেশ দূষণমুক্ত থাকলে সারা দেশ দূষণমুক্ত থাকবে। একটি বাড়ি একটি খামারের মতো একটি বাড়ি একটি বাগানে পরিণত করতে পারি। আমরা আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে পারি, বৃক্ষায়ণ করতে পারি; তবেই প্রকৃতির শান্তি বজায় থাকবে। প্রতিটি মানুষ যদি নিজের নিজের দায়িত্ব পালন করে, তাহলে আমাদের দেশ থাকবে সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা।

শিক্ষক, বালাগঞ্জ সরকারি কলেজ, সিলেট