মনপুরায় চার কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাব

মো. ছালাহউদ্দিন, মনপুরা (ভোলা) সংবাদদাতা

মনপুরা উপকূলে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে তীব্র বাতাস ও জোয়ারের তোড়ে উপজেলার চার কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব বেড়িবাঁধের অবস্থা খুবই নাজুক। জোয়ারের তোড়ে ভেঙে যাওয়া দুইটি স্থানের বেড়িবাঁধ বালির বস্তা ও মাটি ফেলে কোনোরকম মেরামত করেছে পাউবো। স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না হলে যে কোনো সময় জোয়ারের পানির তোড়ে সদ্য মেরামতকৃত বেড়িবাঁধ ও বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ ভেঙে ফের বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত হবে।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার চারটি ইউনিয়নের কমপক্ষে ১০টি স্থানে বেড়িবাঁধের অবস্থা নাজুক। এর মধ্যে হাজিরহাট ইউনিয়নের দাসের হাট, চৌধুরী বাজারের পূর্ব পাশ ও আ. মান্নান মাস্টার বাড়িসংলগ্ন পশ্চিমের বেড়িবাঁধ, সোনারচরের পূর্ব ও পশ্চিমের বেড়িবাঁধ, চরফৈজুদিনের পশ্চিম পাশের ব্রিজের পাশের বেড়িবাঁধ, মনপুরা ইউনিয়নের কূলাগাজী তালুক গ্রামের পশ্চিম পাশের বেড়িবাঁধ, কাউয়ারটেক গ্রামের পশ্চিম পাশের বেড়িবাঁধ, উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের মাস্টারহাটের পশ্চিম পাশের বেড়িবাঁধ ও দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের সূর্যমুখী বেড়িবাঁধ, বাতির খাল ও ঢালী মার্কেট সংলগ্ন এলাকার বেড়িবাঁধের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়াও দুইটি মসজিদ ও একটি মাদ্রাসাসহ  ৩২০টি বাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়াও ৫০ হেক্টর শস্যখেত ও ১১ কিলোমিটার পাকা সড়কের ক্ষতি হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হাজিরহাট ইউনিয়নের নাজমা, জরিনা, রহিম, খলিল ও মনপুরা ইউনিয়নের লক্ষন চন্দ্র দাস, আচিরাম দাস বলেন, আমরা ত্রাণ চাই না। আমরা টেকসই স্থায়ী বেড়িবাঁধ চাই। আমাদের বাপ-দাদার ভিটে-মাটি হারাতে চাই না। দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের মহরলাল চক্রবতী, শাহে আলম বেপারী বলেন, আমরা নদী ভাঙনের হাত থেকে মনপুরাকে রক্ষা করতে চাই। আমরা মেঘনায় বিলীন হতে চাই না। মেঘনার ভাঙ্গন রোধ করে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ চাই।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস মিয়া জানান, ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে আসা ত্রাণ ৬০০ জনের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ক্ষতিগ্রস্তদের পর্যায়ক্রমে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম মিঞা জানান, ঘূর্ণিঝড়ে চার কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে যে কোনো সময় লোকালয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করতে পারে। এ বিষয় পাউবোকে অবহিত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত চার কিলোমিটার বেড়িবাঁধ আগামী অমাবস্যার আগেই মেরামত করা হবে। টেকসই ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি।