ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়ায় অবাধে রেণু শিকার

মনিরুজ্জামান, বোরহানউদ্দিন (ভোলা) সংবাদদাতা

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে অবাধে বাগদা এবং গলদা রেণু পোনা শিকার চলছে। এসব রেণু পোনা স্থল ও নৌ-পথে বরিশাল, পটুয়াখালী হয়ে চলে যাচ্ছে যশোর, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর বিভিন্ন এলাকা জুড়ে চলছে গলদা-বাগদা চিংড়ির পোনা ধরার মহোত্সব। জেলে, শিশু ও বৃদ্ধ সবাই মশারি এবং ঠেলা জাল নিয়ে চিংড়ি রেণু আহরণ করছে। রেণু পোনা ধরতে মশারি দিয়ে বিশেষ জাল তৈরি করে পোনা ধরা হচ্ছে। পরে নিখুঁতভাবে বাছাই করে গলদা, বাগদার রেণু পোনাগুলো আলাদা পাত্রে রেখে জালে ধরা পড়া বাকি সব ফেলে দেয় মাটির ওপরে। এতে নষ্ট হয়ে যায় হাজারো প্রজাতির রেণু পোনা ও জীববৈচিত্র্য।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, একজন জেলে প্রতিদিন ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৫০০ পোনা ধরতে পারে। প্রতিটি পোনা তারা আড়তদারের কাছে এক টাকা দরে বিক্রি করেন। আড়তদার চিংড়ি ঘের-মালিকদের কাছে প্রতিটি পোনা সাড়ে তিন থেকে চার টাকা দরে বিক্রি করেন। মহাজনরা অগ্রিম ঋণ দেওয়ায় পোনা শিকারে উত্সাহী হয়ে উঠছে জেলেরা। রেণু পোনা শিকারি কয়েক জন বলেন, চিংড়ির পোনা ধরা যে অবৈধ, তা তারা জানেন। কিন্তু বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পেটের দায়ে বাধ্য হয়েই রেণু পোনা শিকার করতে হচ্ছে তাদের। কয়েক জন রেণু ব্যবসায়ী জানান, মেঘনার গলদা চিংড়ির পোনা অল্প সময়ে বড় হয়ে যায়। এজন্য যশোর, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরাসহ দেশের চিংড়ি ঘের মালিকদের কাছে মেঘনার পোনার কদর বেশি। জেলেদের কাছ থেকে তারা রেণু পোনা কিনে গলদা ও বাগদা চিংড়ির ঘের মালিকদের কাছে বিক্রি করেন। এ ব্যবসায় তাদের লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। এর সঙ্গে এই এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। তাই তারা পোনা না ধরে থাকতে পারে না। প্রতি মৌসুমে এখানে শতাধিক কোটি টাকার গলদা চিংড়ির পোনা বিক্রি হয়।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা আলী আহম্মদ আকন্দকে উল্লেখিত বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি জেলা মত্স্য কর্মকর্তার সঙ্গে যোগযোগ করতে বলেন। জেলা মত্স্য কর্মকর্তা এস এম আজহারুল ইসলাম জানান, রেণু পোনা শিকার বন্ধে অভিযান চলবে।