সারচার্জ মওকুফের চেষ্টা
মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) নিকট প্রায় ১১ কোটি টাকার বিদ্যুত্ বিল বছরের পর বছর ধরে বকেয়া পড়ে আছে। এ নিয়ে বিদ্যুত্ বিভাগ থেকে বারবার চিঠি দেওয়া হলেও কুসিক কর্তৃপক্ষ তা পরিশোধ করছে না। এই বিশাল অঙ্কের বকেয়া বিলের বিষয়টি বিদ্যুত্সচিব পর্যন্ত গড়িয়েছে। তবুও এর কোনো সমাধান হচ্ছে না। এতে বকেয়া বিলের সঙ্গে সারচার্জ (বিলম্ব মাশুল) যুক্ত হয়ে বিলের পরিমাণ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বিষয়ে কুসিক কর্তৃপক্ষের দাবি স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে এ পর্যন্ত বকেয়া আসল বিল ৩ কোটি টাকা। বাদবাকি টাকা বকেয়া বিলের বিলম্ব মাশুল, যা মওকুফের জন্য চেষ্টা চলছে।
জানা যায়, কুমিল্লা পৌরসভা ও সদর দক্ষিণ পৌরসভাকে একীভূত করে ২০১১ সালের ১০ জুলাই কুমিল্লা সিটি করপোরেশন করা হয়। বর্তমানে সিটি করপোরেশনের আয়তন ৫৩ দশমিক শূন্য ৪ বর্গকিলোমিটার এবং এর জনসংখ্যা ১০ লাখেরও অধিক। কুসিক কর্তৃপক্ষের দাবি সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার আগে পৌরসভার অনেক বিল বকেয়া ছিল, যা এখন সিটি কর্তৃপক্ষের ওপর এসে পড়েছে। বিলুপ্ত পৌরসভার বকেয়াসহ বর্তমানে সিটি করপোরেশনের কাছে প্রায় ১১ কোটি টাকা বকেয়া বিল দাবি করে বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড চিঠি দিয়ে যাচ্ছে। বকেয়া বিলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে সারচার্জ। বিলুপ্ত পৌরসভার বকেয়া বিদ্যুত্ বিল দিতে চাচ্ছে না কুসিক কর্তৃপক্ষ। বিদ্যুত্ বিভাগ জানায়, কুসিক এলাকায় বিদ্যুত্ বিতরণ হয় বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের তিনটি (১, ২ ও ৩) শাখা থেকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বকেয়া প্রায় ৭ কোটি টাকা বকেয়া পাবে বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২। স্থানীয় সরকার বিশ্লেষক ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, বকেয়া বিদ্যুত্ বিল আদায় না হলে সরকার যেমনি রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও বিদ্যুত্ বিল দিতে নিরুত্সাহিত হবে। তাই পুরোনো এ বিল আদায়ের বিষয়টি নিয়ে সরকারের দুই প্রতিষ্ঠানেরই সমঝোতায় আসা উচিত।
কুমিল্লা বিদ্যুত্ বিতরণ বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী পারভেজ আহমেদ বলেন, ‘সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার আগে বিলুপ্ত দুইটি পৌরসভার বকেয়া বিল তো কুসিক কর্তৃপক্ষকেই পরিশোধ করতে হবে। বকেয়া বিলের জন্য আমরা বারবার চিঠি দিচ্ছি, তাছাড়াও সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পরও অনেক বিল বকেয়া রয়েছে। মাঝে মধ্যে কিছু বিল দেয়া হলেও তা খুবই কম।’ তিনি আরো বলেন, ‘বকেয়া বিলের জন্য যে সারচার্জ ধরা হয় তা মওকুফ করার ক্ষমতা আমাদের নেই। বকেয়া বিল না পেলে বিদ্যুত্ আইন অনুসারে মামলা ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিধান রয়েছে, কিন্তু আমরা চেষ্টা করছি বিষয়টি ইতিবাচকভাবে সমাধান করতে।’
কুসিক মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ‘মোটা অঙ্কের এ বিল বকেয়া দীর্ঘ বছরের। স্বাধীনতার পর থেকে কিছু কিছু বিলের বকেয়া থাকায় এমনটি হয়েছে। তবে বিদ্যুত্ বিভাগ এখন যে বকেয়া টাকা দাবি করছে এর অধিকাংশই বকেয়া বিলের সারচার্জ। আসল বিল ৩ কোটি টাকার অধিক হবে না। নগরীর রাস্তাঘাটে জনস্বার্থে বিদ্যুত্ ব্যবহার হয়ে থাকে। সরকার চাইলে সারচার্জ মওকুফ করতে পারে। এ বিষয়ে বিদ্যুত্সচিবের নিকট আবেদন করা হলেও সারচার্জ মওকুফ করা হয়নি। আমরা কিছু বকেয়া পরিশোধ করেছি।’