করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি

ইত্তেফাক রিপোর্ট

 

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে সমগ্র বিশ্বে স্থবির অবস্থা বিরাজ করছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা বিশেষত নারী উদ্যোক্তারা ব্যবসার ক্ষেত্রে কঠিন সময় অতিবাহিত করছে। বৃহস্পতিবার প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে, সামাজিক সুরক্ষা, এসএমই সেক্টর, শিল্প উত্পাদন ও সেবা খাত এবং বিশেষত ই-কর্মাস সেক্টরকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখার জন্য আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিডব্লিউসিসিআই)। পাশাপাশি প্রস্তাবিত বাজেটে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্তির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় উইমেন চেম্বারের পক্ষ থেকে করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এসএমই সেক্টরে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে অন্তর্ভুক্তির জন্য কিছু সুপারিশ তুলে ধরে উইমেন চেম্বারে পক্ষ থেকে নারীদের জন্য ব্যক্তিগত আয়কর সীমা ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করার দাবি করা হয়। করোনা পরিস্থিতির উন্নতির পর নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা আবার শুরুর পরে প্রথম ছয় মাসের জন্য ভ্যাট ও ট্যাক্স মওকুফ করা প্রয়োজন। সেইসঙ্গে সার্ভিস সেক্টর যেমন :বুটিক, বিউটি পার্লার ও ক্যাটারিং, রেস্টুরেন্ট, খাবারের দোকান, খাদ্যের ব্যবসা ইত্যাদি খাতের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ নির্ধারণ করার দাবি করা হয়। নতুন নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসা শুরুর প্রথম তিন বছর ট্যাক্স, ভ্যাট মওকুফ করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি ব্যবসার নতুন ট্রেড লাইসেন্স ফি ও নবায়ন ফি ৫০ শতাংশ হ্রাস করার আহ্বান জানানো হয়।  

চেম্বারের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে, উপরোক্ত প্রস্তাবনাসমূহ সংশোধিত বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হলে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পাবে ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নারী উদ্যোক্তারা আরো বেশি গতিশীল ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। বৃহস্পতিবার ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নে বিশেষ প্রণোদনা হিসাবে ব্যবসায়ের মোট টার্নওভারের ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত কর মুক্ত করার প্রস্তাবে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘ই-বাণিজ্য করব, নিজের ব্যবসা গড়ব’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে ৫ হাজার নতুন উদ্যোক্তাকে ই-কর্মাস বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়ে। প্রস্তাবিত বাজেটে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য ৪ হাজার ১৯১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, এর ফলে যা নারী ও শিশুদের উন্নয়নে অবদান রাখবে বলে মনে করছে উইমেন চেম্বার।