সম্প্রতি গার্মেন্টস খাতে মজুরি বৃদ্ধি ইস্যুতে শ্রম অসন্তোষের ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ও শ্রমিকদের ঢালাওভাবে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন।
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এর প্রতিবাদে শুক্রবার এক সমাবেশে সংগঠনের নেতারা গ্রেফতারকৃত শ্রমিকদের মুক্তি, হয়রানি বন্ধ করা ও চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহালের দাবি জানান। সংগঠনের সভাপতি আমিরুল হক আমিনের সভাপতিত্বে এতে শ্রমিক নেতারা বক্তব্য দেন।
সমাবেশে জাননো হয়, মজুরি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এ পর্যন্ত ৩০টি বেশি মামলায় আসামি করা হয়েছে ৪ হাজার শ্রমিককে। গ্রেফতার হয়েছে শতাধিক। এছাড়া প্রায় সাত হাজার শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। চাকরিচ্যুতি ও হয়রানি এখনও চলমান। তারা শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধ করার পাশাপাশি ঢালাও ছাঁটাই ও গ্রেফতার বন্ধের দাবি জানান। এছাড়া আশুলিয়ার ম্যাগপাই সোয়েটার প্লাস লিমিটেড ও জি জে ক্যাপস লিমিটেডের চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের চাকুরিতে পুনর্বহালেরও দাবি জানান। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আরিফা আক্তার, কেন্দ্রীয় নেতা সাফিয়া পারভীন, আলেয়া বেগম, রফিকুল ইসলাম রফিক, ফরিদুল ইসলাম, নাসিমা আক্তার, ইসরাত জাহান ইলা এবং পারভীন আক্তার। সমাবেশে সংহতি বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সাধারন সম্পাদক আনিসুর রহমান মল্লিক, ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিলের (আইবিসি) মহাসচিব সালাউদ্দিন স্বপন প্রমুখ।
আরও পড়ুন: এসএসসি পরীক্ষা শুরু শনিবার
প্রসঙ্গত, সরকার গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যুনতম মজুরি ৫ হাজার ৩শ’ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮ হাজার টাকা করার ঘোষণা দেয় গত বছরের শেষ দিকে। এ খাতের শ্রমিকদের সাতটি গ্রেডে মজুরি দেওয়া হয়। সর্বনিম্ন দু’টি গ্রেড বাদে উপরের গ্রেডগুলোতে প্রত্যাশিত মজুরি না বাড়ার অভিযোগ তুলে গাজীপুর, আশুলিয়া ছাড়াও রাজধানীর মিরপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকার শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করে। শ্রমিকদের বিক্ষোভে অনেক কারখানা অচল হয়ে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকর নতুন করে মজুরি পর্যালোচনায় কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি উপরের গ্রেডগুলোতে মজুরি বাড়ানোর ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
ইত্তেফাক/এমআই