বিভিন্ন জেলায় বাড়ছে করোনার সংক্রমণ

২৪ ঘণ্টায় চার জেলায় ১৪ জনের মৃত্যু

ইত্তেফাক ডেস্ক

বিভিন্ন স্থানে বাড়ছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে রাজশাহী, সাতক্ষীরা, দিনাজপুর ও ঝিনাইদহে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে গোপালগঞ্জে সাত জনের শরীরে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত হওয়ায় দুই ইউনিয়নে আরো সাত দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছে প্রশাসন। ইত্তেফাক প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর।

রাজশাহী: রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আরো আট জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের চার জন করোনা পজিটিভ ও অন্যদের উপসর্গ ছিল। শনিবার রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মৃতদের মধ্যে পাঁচ জন চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং তিন জন রাজশাহীর বাসিন্দা। তিনি আরো বলেন, ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে নতুন করে ১৬ জন রামেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ১০ জন রাজশাহীর, পাঁচ জন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ও এক জন নওগাঁর। এদিন দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন ২২৪ জন এবং আইসিইউতে ছিলেন ১৬ জন।

সাতক্ষীরা: করোনা উপসর্গ নিয়ে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ ও সদর হাসপাতালে এক নারীসহ তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার ভোররাত থেকে শনিবার ভোররাত পর্যন্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। মৃতরা হলেন সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার সোনাতলা গ্রামের আব্দুস সাত্তার গাজীর স্ত্রী সেলিনা খাতুন (৪৫), সাতক্ষীরা পৌর শহরের মুন্সিপাড়া এলাকার মৃত ইউসুফ আলী সরদারের ছেলে মো. আশরাফ হোসেন সরদার (৮৭) ও শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী গ্রামের মৃত আহাদ আলী গাজীর ছেলে সামছুর রহমান (৩৫)। এ নিয়ে সাতক্ষীরা জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৫ জুন পর্যন্ত মারা গেছেন অন্তত ৫০ জন। আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন কমপক্ষে ২১৫ জন। সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. কুদরত-ই-খুদা ও সিভিল সার্জন ডা. হুসেন সাফায়েত পৃথকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দিনাজপুর: দিনাজপুরে করোনা সংক্রমণের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। এখন শুধু সংক্রমণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। ৪ জুন দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ৩২ জনের করোনা শনাক্তসহ এখন পর্যন্ত দিনাজপুরে সর্বমোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৯২৫ জন। এছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে দুই জনের মৃত্যুসহ এখন পর্যন্ত দিনাজপুরে মোট মৃতের সংখ্যা ১৩১ জন। জেলার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্বসহ সরকার নির্দেশিত দিকনির্দেশনা ভালোভাবে পালন করতে পারি তবেই করোনার ছোবল থেকে নিজে বাঁচার পাশাপাশি পরিবার ও অন্যান্য মানুষকেও রক্ষা করতে পারব।

ঝিনাইদহ: সীমান্তবর্তী জেলা ঝিনাইদহ জেলায় করোনা সংক্রমণের হার বাড়ছে।  শুক্রবারও করোনায় আক্রান্ত হয়ে এক জন মারা গেছেন। জেলার সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম জানান, শনিবার ১৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ছয় জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। শনাক্তের হার শতকরা ৩৫ ভাগ। এর আগে ঝিনাইদহে নমুনা সংগ্রহের পর শনাক্তের হার ছিল ১৩ ভাগ। সিভিল সার্জন অফিসের করোনা বিষয়ক মুখপাত্র ডা. তালাত তাসমিম শুভ জানান, রাজবাড়ীর পাংশার হাজেরা বেগম (৬৫) গত ৩১ মে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। পরীক্ষার পর তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান। ঝিনাইদহ জেলায় এ পর্যন্ত ২ হাজার ৯৪৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ৫৭ জন। ঝিনাইদহ ইসলামি ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মো. আব্দুল হামিদ খান জানান, তাদের তত্ত্বাবধানে এ পর্যন্ত ঝিনাইদহ জেলায় ৭৭ জন করোনায় মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা হয়েছে।

গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জে সাত জনের শরীরে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত হয়েছে। আইইডিসিআরের বরাত দিয়ে গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ শনিবার সকালে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ ধরন দ্রুত ছড়ায় তাই জেলার বৌলতলী ও সাতপাড় ইউনিয়নে  শনিবার থেকে আরো সাত দিনের কঠোর লকডাউন দেওয়া হয়েছে।  গোপালগঞ্জে অধিক হারে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ায় সদর উপজেলার সাতপাড়, সাহাপুর ও বৌলতলী ইউনিয়নে ২৮ মে থেকে সাত দিনের কঠোর লকডাউন দেয় স্থানীয় প্রশাসন। সাহাপুরে সংক্রমণ না থাকায় সেখানকার লকডাউন প্রত্যাহার এবং বৌলতলী ও সাতপাড় ইউনিয়নে আরো সাত দিনের লকডাউন দেওয়া হয়েছে। গোপালগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. এস এম সাকিবুর রহমান জানান, এ পর্যন্ত গোপালগঞ্জে করোনায় ৩ হাজার ৯৪৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৪০ জনের।