নদীকে বলা হয় সভ্যতার প্রাণ। যে কোনো সভ্যতার গোড়াপত্তন নদীকেন্দ্রিক। মেসোপটেমিয়া, ইউফ্রেটিস-ট্রাইগ্রিস, সিন্ধু ও মিশরীয় সব সভ্যতাই নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছিল। তাই নদীর যে কোনো বিপর্যয়ে সভ্যতার বিপর্যয় অনিবার্য। এজন্য সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট নিশ্চিত করতে হলে সবার আগে নদীকে বাঁচাতে হবে। পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো নদী। নদী বাঁচলেই বাঁচবে তরুলতা, গাছপালা ও জীবজন্তু। পরিতাপের বিষয় হলো, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও দুর্নীতির মাধ্যমে নদীকে গলা টিপে হত্যা করা হচ্ছে। নদী দখল ও নদীর জলপ্রবাহে বিঘ্ন ঘটিয়ে তৈরি করা হচ্ছে সেতু। নদী দখলের বিষয়টি সরাসরি রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত। একটি প্রভাবশালী মহল নদী লিজ নিয়ে বা না নিয়ে বিভিন্ন অসাধু উপায়ে নদী দখল করছে। ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তনসহ নাব্যতা হ্রাস পাচ্ছে। কোথাও কোথাও নদী মরে যাচ্ছে। অন্য কারণটি হলো কারিগরি অসতর্কতা যার মধ্যে রয়েছে নদীর দুইপাড় সংকোচিত করে সেতু নির্মাণ বা সেতুর প্রয়োজনীয় উচ্চতা না রাখা বা সরু নদীর ঠিক মাঝখানে পিলার বসানো। আর এতে নদীতে নৌযান চলাচল ও নদীর পানি প্রবাহে বিঘ্নিত হয়। আবার অনেক এলাকায় নির্ধারিত স্থানে সেতু নির্মাণ না করে প্রভাবশালীদের বাড়ির সামনে ব্যক্তির স্বার্থে অপ্রয়োজনীয় সেতু নির্মাণ করা হয়। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায় যে, ভোলায় ২০০০-২০০৬ সালে ‘লো কস্ট মানি’ প্রকল্পের আওতায় ১৮৪টি সেতু নির্মাণ করা হয়। যার মধ্যে অর্ধশতাধিক বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির বাড়ির সামনে নির্মাণ করা হয়েছিল। এ যেন ‘এক নেতা, এক সেতু’! তাই সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নদীর অবৈধ দখলমুক্ত করা, নদী শাসন নিশ্চিত করে সেতু নির্মাণ ও ব্যক্তিবিশেষের স্বার্থে অপ্রয়োজনীয় সেতু নির্মাণ বন্ধ করে নদীসত্তাকে ফিরিয়ে আনতে হবে। তাহলেই বাঁচবে নদী, বাঁচবে সভ্যতা, রক্ষা হবে পরিবেশ।
সাজিম উদ্দিন
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়